রাস্তায় হাঁটু পর্যন্ত কাদা, ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নে একটি কাঁচা রাস্তা নিয়ে দুর্ভোগের শেষ নেই। তিন কিলোমিটার সড়কের মাত্র আধা কিলোমিটার পাকা হলেও বেশিরভাগই রয়ে গেছে কাঁচা। ফলে শুষ্ক মৌসুমে ধুলা আর সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তাটি কাদায় পরিণত হয়।
বিশেষ করে বৃষ্টি-বর্ষা মৌসুমে হাঁটুসমান কাদায় পরিণত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে রাস্তাটি। সম্প্রতি রাস্তাটিতে ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার চতুল ইউনিয়নের কালিয়ান্ড মোড় থেকে রাজাপুর, রাজাবেনী হয়ে বিশ্বাসপুর গ্রাম পর্যন্ত কাঁচা রাস্তাটির দৈর্ঘ্য প্রায় তিন কিলোমিটার। এ রাস্তার হাঁটুসমান কাদা-পানি মাড়িয়ে স্কুল-কলেজে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের। গ্রামের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না জরুরি সেবার কোনো গাড়ি। এমনকি মরদেহ দাফনের জন্য গোরস্থানে যেতেও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় এলাকাবাসীর।
রাজাপুর গ্রামটির পাশেই উপজেলার বৃহৎ বিল দাদুড়িয়া ও গজারিয়ার বিল। হাজার হাজার একর জমির ফসল এ রাস্তা দিয়েই আনা-নেওয়া করেন শত শত কৃষক। কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও একই সড়ক ব্যবহার করতে হয় তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা পান্নু শেখ জাগো নিউজকে বলেন, ‘তিন কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে কিছুদিন আগে আধা কিলোমিটার পাকা করা হয়েছে। বাকি আড়াই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা নিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই।’
কৃষক আব্দুল হক মুন্সি জাগো নিউজকে বলেন, ‘কাদা-বৃষ্টিতে রাস্তা আর রাস্তা থাকে না, ফসলি জমির মতো হয়ে যায়। ফসল ঘরে তোলা যায় না। ছেলেমেয়েরা স্কুল, কলেজ, মাদরাসায় যেতে পারে না। যুগের পর যুগ ধরে পাঁচটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ রাস্তাটি নিয়ে ভুগছেন। এ কষ্ট কবে শেষ হবে তা জানা নেই।’

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি মেম্বার খন্দকার আকবর জাগো নিউজকে বলেন, ‘এলাকার লোকজন ও কৃষকরা গাড়ি চালিয়ে রাস্তা গর্ত করে ফেলেছেন। বৃষ্টির পানি জমে কাদার সৃষ্টি হয়েছে। কিছুদিন আগে আধা কিলোমিটার রাস্তা পাকা করা হয়েছে। বাকিটুকুও হয়ে যাবে।’
চতুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এরই মধ্যে আধা কিলোমিটার রাস্তা পাকা করা হয়েছে। বাকিটুকুও পাকাকরণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।’
জানতে চাইলে বোয়ালমারী উপজেলা প্রকৌশলী (স্থানীয় সরকার বিভাগ) পূর্ণেন্দু সাহা জাগো নিউজকে বলেন, আমি সদ্য যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজখবর নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এন কে বি নয়ন/এসআর/জিকেএস