দিনভর বৃষ্টি, জলজটে নাকাল যশোর

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৯:১১ পিএম, ২৩ আগস্ট ২০২৩

যশোরে দিনভর টানা বৃষ্টিতে গোটা শহর জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। বুধবার (২৩ আগস্ট) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক দফা ভারী বর্ষণ ও দিনভর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে নাকাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যদিও যশোর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিস বৃষ্টিপাতের পরিমাণ রেকর্ড করেছে ১০ মিলিমিটার।

স্থানীয়রা জানান, ড্রেনের পানি প্রবাহের পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু এ সংকট দূর করার জন্য কোনো ধরনের মহাপরিকল্পনা নেই পৌরসভার। ফলে ভোগান্তি নিয়েই বসবাস করছে শহরের দক্ষিণ অংশের অর্ধলক্ষাধিক বাসিন্দাদের।

তবে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, মূলত অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনার কারণে ওই এলাকার পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে না। এতে ভোগান্তি বেড়েছে শহরবাসীর।

যশোর বিমানবাহিনী নিয়ন্ত্রণাধীন আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৬ থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে বিমান বাহিনীর এ আবহাওয়া অফিস যশোর শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরত্বে। মূলত ওই এলাকা থেকেই প্রতিষ্ঠানটি বৃষ্টিপাতের পরিমাণ রেকর্ড করে থাকে।

আরও পড়ুন: যানজট জলজটে তীব্র ভোগান্তি 

এদিকে যশোরে দিনভর ভারী বৃষ্টিপাতে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের অন্তত ২০টি সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। শহরের খড়কি এলাকার শাহ আবদুল করিম সড়ক, শহরের পিটিআই সড়কের একপ্রান্ত, নাজির শংকরপুর, খড়কি রূপকথা মোড় থেকে রেললাইন, বেজপাড়া চিরুনিকল মোড়, মিশনপাড়া, আবরপুর, বিমানবন্দর সড়ক, ষষ্ঠীতলাপাড়া, শংকরপুর চোপদারপাড়া, স্টেডিয়ামপাড়া, নীলরতন ধর রোডসহ বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী ও এলাকাবাসী। এসব এলাকার বাড়িঘরেও পানি ঢুকেছে। এসব অঞ্চলের বাসিন্দাদের দিনভর ভোগান্তির এমন দৃশ্যের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেজবুকে পোস্ট করতে দেখা গেছে। অনেকেই সরকার ও পৌর কর্তৃপক্ষকেও সমালোচনা করে পোস্ট দিতেও দেখা গেছে।

jagonews24

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহরের ভেতর দিয়ে ভৈরব ও মুক্তেশ্বরী নামে দুটি নদ-নদী বয়ে গেছে। এর মধ্যে ভৈরব নদ দিয়ে শহরের উত্তরাংশ ও মুক্তেশ্বরী নদী দিয়ে শহরের দক্ষিণাংশের পানি নিষ্কাশিত হয়। কিন্তু গত দেড় দশক শহরের দক্ষিণাংশের পানি মুক্তেশ্বরী নদী দিয়ে নামতে পারছে না। পয়োনিষ্কাশন নালার মাধ্যমে শহরের পানি হরিণার বিল দিয়ে মুক্তেশ্বরী নদীতে যেত। কিন্তু ২০১০ সালে হরিণার বিলে যশোর মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হয়। এরপর আশপাশে আরও অনেক স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এতে বিল দিয়ে পানি আগের মতো নিষ্কাশিত হতে পারছে না। ওই পানি বের করার জন্য খালের মাধ্যমে মুক্তেশ্বরী নদীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে হবে। কিন্তু পৌরসভা গত দেড় দশকেও সেই উদ্যোগ নিতে পারেনি।

ওই এলাকার বাসিন্দা জেলা সহকারী তথ্য কর্মকর্তা এলিন সাঈদ-উর রহমান বলেন, এখানে ১৫-২০ বছর ধরে জলাবদ্ধতার সমস্যা। বৃষ্টি হলে মানুষের ভোগান্তির শেষ থাকে না। অপরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ করায় শহরের পানি চলাচল বাধাগ্রন্ত হওয়ায় এ জলাবদ্ধতা দেখা যাচ্ছে। ঠিক মতো ড্রেন পরিস্কার করাও হয় না বলে তিনি অভিযোগ করেন।

খড়কি এলাকার শাহ আবদুল করিম সড়কের বাসিন্দা আজিজুর রহমান বলেন, ১২ মাসই এ সড়কে সমস্যা থাকে। বর্ষাকালে সমস্যা দ্বিগুণ হয়। বর্ষাকালে প্রতিদিন হাটু পানি থাকে। পাশেই সরকারি এম এম কলেজ। এখানকার শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগ ছাত্রাবাস খড়কিতে। এখানে মেসগুলোতে সড়ক ও এলাকার জলাবদ্ধতার কারণে কেউ উঠতে চায় না!

যশোর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম শরীফ হাসান বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তবে শহরবাসীর অসচেতনতার কারণেও নালার পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। রাস্তা ও নালা সংস্কার এবং নির্মাণে নতুন প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, যশোরের ২৫২ কিলোমিটার পয়োনিষ্কাশন নালা (ড্রেন) রয়েছে। এর মধ্যে ৫৫ কিলোমিটার আরসিসি, ৬০ কিলোমিটার ইট, ৫ কিলোমিটার পাইপ ও ১৩০ কিলোমিটার কাঁচা নালা রয়েছে। এরমধ্যে নগর উন্নয়ন প্রকল্পসহ কয়েকটি প্রকল্পের মাধ্যমে গত ১৪ বছরে ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪০ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। এ

জানতে চাইলে পৌরসভার মেয়র হায়দার গণি খান পলাশ বলেন, জলাবদ্ধতা দূর করণে আমরা কাজ করছি। মুক্তেশ্বরীর সঙ্গে সংযোগ খাল স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছি। ৪০ কোটি টাকার প্রকল্পটি অর্থায়ন করেছে বিশ্বব্যাংক।

মিলন রহমান/আরএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।