রোগীর পেটে গজ রেখে সেলাই, ৫ মাস পর অপসারণ
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা সদরের ভাঙ্গা গ্রিন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক রোগীর পেটে গজ রেখে সেলাই করে ছাড়পত্র দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রোগী মোসাম্মৎ এ্যামি আক্তারের স্বামী তুষার মিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তুষার ভাঙ্গা উপজেলার হাসামদিয়া মধ্যপাড়া গ্রামের মাহবুব মিয়ার ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ মার্চ এ্যামি আক্তারকে ভাঙ্গা গ্রিন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তির পর সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। এরপর ২৭ মার্চ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
কিছুদিন পর এ্যামি আক্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে পুনরায় ওই হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কোনো রোগ নির্ণয় করতে পারেননি। পরে তাদের বলে দেওয়া হয় রোগীর থাইরয়েডের সমস্যা আছে। তবে রোগীর অসুস্থতা বাড়তে থাকলে গত ২২ আগস্ট তাকে ঢাকায় নিয়ে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীকালে সেখানে অপারেশন করলে রোগীর পেটে পচা গজ ও মলমূত্র পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে এ্যামি আক্তারের স্বামী তুষার মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, আমার স্ত্রীকে সিজারের পর তার পেটে গজ-মলমূত্র রেখে সেলাই করে আমাদের ছাড়পত্র দিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আমার স্ত্রী সুস্থ না হওয়ায় আবার ভাঙ্গার ওই হাসপাতালে নিয়ে গেলেও তারা কোনো রোগ নির্ণয় করতে পারেননি ও চিকিৎসা দেননি। পরবর্তীকালে ঢাকায় ল্যাবএইডে নিয়ে মেডিকেল বোর্ড বসিয়ে নতুন করে অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর তার পেটে পচা গজ ও মলমূত্র পাওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, আমার স্ত্রী এখনো অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি। আমি এর যথাযথ বিচার চাই।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা গ্রিন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক হাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, পাঁচ মাস আগের ঘটনা। এতদিন পরে এ নিয়ে অভিযোগ কেন? তাছাড়া ওই রোগী ও তার লোকজন হাসপাতালে এসেছিলেন। এক কথায় তাদের অভিযোগ সঠিক নয়। আর পেটে গজ-ব্যান্ডেজ থাকলে এতদিনে রোগী সুস্থ থাকার কথা নয়। সিজারের সময় আমাদের হাসপাতাল থেকে কোনো সমস্যা হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে জানতে ভাঙ্গা গ্রিন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিজারিয়ান অপারেশন করা ডা. তামান্না আলমের সঙ্গে যোগাযোগেরে জন্য তার ফোন নম্বর চান প্রতিবেদক। তবে তার নম্বর না দিয়ে হাসপাতালের পরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, ডাক্তারের অনুমতি নিয়ে মোবাইল নম্বর দিতে হবে। আমি যোগাযোগ করে পরবর্তীতে আপনার সঙ্গে কথা বলার ব্যবস্থা করে দেবো।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মাহবুব উর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এন কে বি নয়ন/এমআরআর/এমএস