রাস্তা থেকে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে মাঝনদীতে দলবদ্ধ ধর্ষণ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৫:৪৪ পিএম, ৩১ আগস্ট ২০২৩
ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এক গৃহবধূকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে ওই নারীর স্বামী বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন।

এর আগে ২৭ আগস্ট এই ঘটনা ঘটে। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ওই নারীকে নারায়ণঞ্জের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন- ওই গৃহবধূর সাবেক স্বামী শেখ ফরিদ, তার সহযোগী রাধানগর গ্রামের আ. লতিফের ছেলে মো. হালিম, নোয়াব মিয়ার ছেলে মো. মজিবুর, এসেন মিয়ার ছেলে সোহেল মিয়া ও আফাজদ্দিনের ছেলে আ. কাদির।

ভুক্তভোগীর স্বামীর বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, উপজেলার কালাপাহাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা ওই গৃহবধূর (২৫) ৫ বছর আগে রাধানগর গ্রামের আ. লতিফের ছেলে শেখ ফরিদের (৩৫) সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের আগে ওই গৃহবধূর পরিবার জানতো না তিনি মাদকসেবী। বিয়ের পর থেকে শেখ ফরিদ মাদকের টাকার জন্য ওই গৃহবধূকে মারধর করতেন। এনিয়ে স্থানীয়ভাবে বিচার সালিশ হলেও শেখ ফরিদের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

অবশেষে ওই বছরই কাজী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে শেখ ফরিদকে তালাক দিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন তিনি। এর এক বছর পর পারিবারিকভাবে কালাপাহাড়িয়া এলাকার এক যুবকের সঙ্গে তার আবার বিয়ে হয়। সুখে শান্তিতেই বসবাস করে আসছিলেন তারা। কিন্তু শেখ ফরিদ ওই গৃহবধূর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তাকে ফোনে ভয়ভীতি দেখানোসহ বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন।

গত ২৭ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাড়ির পাশের রাধানগর বাজরের ফার্মেসি থেকে ওষুধ আনার জন্য বের হলে রাস্তায় শেখ ফরিদ তাকে দেখতে পেয়ে ডাক দেন। ডাকে সাড়া না দিলে শেখ ফরিদ মুখ চেপে ধরে অন্যান্য সহযোগীদের সাহায্যে তাকে মেঘনা নদীর ঘাটে উঠিয়ে নিয়ে যান। সেখান থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে মাঝনদীতে নিয়ে তারা পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।

এদিকে স্ত্রীর খোঁজে বন্ধুকে নিয়ে ওই রাতেই তার স্বামী নদীর ঘাট এলাকায় গেলে ধর্ষণকারীরা দেখতে পেয়ে তাকে ট্রলারে তুলে নদীর মাঝখানে নিয়ে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় মাঝনদীতে রেখে চলে যান। পরে সেখান থেকে এসে স্ত্রীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এই ঘটনায় স্থানীয় প্রভাবশালী মহল থানায় মামলা না করে মীমাংসা করার জন্য চাপ দিতে থাকে এবং তাদের পরিবারকে নজরবন্দি করে রাখে। পরে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার কথা বলে বৃহস্পতিবার এলাকা থেকে থানায় আসেন তারা এবং মামলা করেন।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলমান রয়েছে।

মোবাশ্বির শ্রাবণ/এফএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।