ফরিদপুরে ভোটার হওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা ৫ ‘রোহিঙ্গার’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ১২:৪৮ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ফরিদপুরের সালথায় ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, পৃথক দুই জায়গার জন্ম-নাগরিক সনদ দিয়ে পাঁচ ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র করার উদ্যোগ ভেস্তে গেছে। তাদের রোহিঙ্গা সন্দেহ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) আবেদনগুলো বাতিল করেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আব্দুর রশিদ।

জানা যায়, জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে ১০ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে সালথার বল্লভদী ইউনিয়নের ফুলবাড়ীয়া গ্রামের খোরশেদ আলীর মেয়ে দিলদারা বেগম (২৬), মনিরুল ইসলামের ছেলে নূর মোস্তফা (২১), খোকন মিয়ার ছেলে হাফিজুর রহমান (২৬), কালা মিয়ার মেয়ে বুশরা বেগম (২৫), আব্দুল মানিকের ছেলে নূর বশার (২৩) আবেদন করেন।

১০ সেপ্টেম্বর বল্লভদী ইউনিয়ন থেকে নাগরিক সনদ নেন তারা। এতে স্বাক্ষর করেন ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুজ্জামান শাহীন। জাতীয় পরিচয়পত্রের আবেদনপত্রে শনাক্তকারী হিসেবে স্বাক্ষর করেন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য তাপস কুমার হোড়। এছাড়া আবেদনপত্রে যে জন্ম সনদগুলো জমা দিয়েছিলেন সেগুলো কিশোরগঞ্জের নিকলি উপজেলার ছাতিরচর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেওয়া।

সালথার বল্লভদী ইউনিয়নের ফুলবাড়ীয়া গ্রামের বাসিন্দা তপন কুমার সরকার বলেন, ফুলবাড়িয়া গ্রামে খোরশেদ আলী, মনিরুল ইসলাম, খোকন মিয়া, কালা মিয়া, আব্দুল মানিক নামে কোনো ব্যক্তি আছে বলে আমার জানা নেই।

এ বিষয়ে বল্লভদী ইউনিয়নের আট নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তাপস কুমার হোড় জাগো নিউজকে বলেন, ১০ সেপ্টেম্বর আমি কাজে খুব ব্যস্ত ছিলাম। এ সময় করিম টেলিকমের মালিক করিম বাওয়ালী এসে আমার কাছ থেকে ওই পাঁচটি আবেদনের স্বাক্ষর নিয়ে যান। আমি বুঝতে পারি নাই করিম আমার সঙ্গে এমন করবে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে করিম টেলিকমের মালিক করিম বাওয়ালীর সঙ্গে মোবাইলে নম্বরে কল দিলেও বন্ধ পাওয়া যায়। তার দোকানটিও বন্ধ আছে।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের নিকলি উপজেলার ছাতিরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শামসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, এদের নামে কোনো জন্ম সনদ দেওয়া হয়নি। কাগজপত্রগুলো ভুয়া বলে।

বল্লভদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুর রহমান শাহীন জাগো নিউজকে বলেন, ওই নাগরিক সনদের স্বাক্ষর আমার না। আমার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।

এর সত্যতা নিশ্চিত করে সালথা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আব্দুর রশিদ জাগো নিউজকে বলেন, আমার কাছে আবেদন আসার পর দেখি এদের জন্ম সনদ এক জায়গার এবং নাগরিক সনদ আরেক জায়গার। আবার তারা জাতীয় পরিচয়পত্র নিতে চান সালথার ফুলবাড়িয়া থেকে। এতে সন্দেহ হলে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে তাদের আবেদনগুলো বাতিল করা হয়।

তিনি আরও বলেন, তাদের কথা বলায় আরষ্টতা ছিল। তবে চেহারাগত আমূল কোনো পার্থক্য খুঁজে পাইনি। তবে তারা রোহিঙ্গা কি না বলতে পারবো না।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনিসুর রহমান বালি জাগো নিউজকে বলেন, এমন ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করাসহ অভিযান শুরু হয়েছে। যার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।


এন কে বি নয়ন/এসজে/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।