সুনামগঞ্জে মাজারের নামে চলছে লুটপাটের মহোৎসব


প্রকাশিত: ০৫:১৫ এএম, ২৭ মার্চ ২০১৬

সুনামগঞ্জের শাহ আরেফিনের মাজারকে ঘিরে চলছে লুটপাটের মহোৎসব। প্রায় দেড় যুগ ধরে পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি বাদাঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন ও আলম ছাব্বিরসহ একটি সিন্ডিকেট এ লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় এদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলারও সাহস পায়না। আর যদি কেউ প্রতিবাদ করে তাহলে তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়।

সম্প্রতি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার লাওড়েরগড় সীমান্তে শাহ আরেফিনের মাজারে সরজমিনে গেলে সাংবাদিকদের দেখে সত্তর বছরের এক বৃদ্ধা বলেন, শাহ আরেফিনের মাজারে প্রতিবছর ওরস বসে। লাখো মানুষ সমবেত হয় এ মাজারে। এ সময়  মাজারের আশেপাশে ছোট-বড় প্রায় ৫ শতাধিক দোকান বসে। ওরস চলাকালীন সময়ে দোকানগুলো থেকে ১৫/২০ লাখ উত্তোলন করা হয় মাজারের নামে। এছাড়া প্রতিদিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীগণ মোকামে টাকা-পয়সা, ছাগল, গরু ইত্যাদি দান করে থাকেন কিন্তু এসব দান-অনুদানেরও কোনো হদিস নেই।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, মাজারের নামে টাকা উত্তোলন করে শাহ আরেফিনের মাজার কমিটি। এ কমিটির কাগজে কলমে সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার হলেও টাকা-পয়সা আদান-প্রদান করেন সাবেক চেয়ারম্যান ও মাজার কমিটির সহ-সভাপতি জালাল উদ্দিন ও আলম ছাব্বিরসহ একটি প্রভাবশালী চক্র।

শাহ আরেফিন মোকাম পরিচালনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ নুরুল আমিন জানান, বিষয়গুলো ভাল জানেন মাজার কমিটির সভাপতি ইউএনও জালাল সাব ও আলম ছাব্বির। আমি কমিটির কোষাধ্যক্ষ কিন্তু হযরত শাহ আরেফিন মোকাম নামে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক বাদাঘাট শাখা একাউন্ট নং ১৫৮৪ নম্বরে তিন বছর ধরে কোনো টাকা নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি জানান, বাহহা ট্যাহা তোলা অয়। এসব ট্যাহা জালাল সাব ও আলম ছাব্বির বাইট্টা নেয়গা।

Majer

সোয়ালা গ্রামের আব্দুল হেকিম জানান, মাজারের ওরসের সময় দোকানগুলো থেকে উঠানোসহ দান- অনুদানের সময় বস্তাভর্তি করে টাকা তোলা হয়। ওরস শেষে ঐ লাখ লাখ টাকা কোথায় যায় খোঁজ পাওয়া যায়না। দীর্ঘদিন ধরে একই কমিটি থাকে কোনো পরিবর্তনও হয়না।

শাহ আরেফিনের মাজার পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আলম ছাব্বির জানান, মাজারের যে আয় হয় তা দিয়ে মাজারের এতিমখানা, মাদ্রাসা, মসজিদ পরিচালনা করতে ব্যয় হয়। বর্তমানে একাউন্টে কোনো টাকা নেই, ঘাটতি আছে।

বাদাঘাট উত্তর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা জালাল উদ্দিন জানান, আমি প্রায় ১৫ বছর ধরে এ কমিটির সহ-সভাপতি। মাজারের যা আয় হয় তা দিয়ে উন্নয়নমূলক কাজ ও বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়। এ কমিটির সভাপতি তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, টাকা কালেকশনের সময় ইউএনও এবং পুলিশের লোকজন থাকে। কোনো অনিয়ম হয়না। যে সকল অভিযোগ করা তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

মাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন জানান, আমি গত বছর তাহিরপুরে যোগদান করেছি। মাজার কমিটি টাকা উঠানোর পর গননা করার সময় আমাদের প্রতিনিধি থাকে কিন্তু কোনো টাকা জমা হয়না। তারা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের ব্যয় দেখায়। মাজার কমিটির সভাপতি হলেও আমার নামে কোনো একাউন্ট নেই। এ বছর চেষ্টা করবো সভাপতি হিসেবে যৌথ একাউন্ট করার।

এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।