কালীগঞ্জে শেষ মুহূর্তে প্রচারণা তুঙ্গে


প্রকাশিত: ০২:৩৪ এএম, ২৯ মার্চ ২০১৬

দ্বিতীয় ধাপে গাজীপুরের কালীগঞ্জের ৭টি ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ নির্বাচনকে ঘিরে একেবারে শেষ মুহূর্তে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা এখন তুঙ্গে। চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নাওয়া-খাওয়া ভুলে বিরামহীনভাবে গণসংযোগের পাশাপাশি জনসভা, পথসভা, মাইকিং সমান তালে চালিয়ে যাচ্ছেন। বসে নেই ইউনিয়নগুলোর সংরক্ষিত ও সাধারণ সদস্য প্রার্থীরাও।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৭টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ২৬ জন, সংরক্ষিত সদস্য পদে ৬৫ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ২৪০ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে শামিল হয়েছেন। চেয়ারম্যান পদে বিএনপিতে কোন বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। আওয়ামী লীগের সব ইউনিয়নে দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী থাকলেও নাগরীতে ২ জন, জামালপুরে ও বাহাদুরসাদী ইউনিয়নে একজন করে আওয়ামী লীগের চার নেতা বিদ্রোহী হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে বিদ্রোহী ওই চার নেতাকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।   

জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গাজী সারওয়ার হোসেন ও বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নেছার উদ্দিন নুহু। তাদের দুইজনের মধ্যে লড়াই হলেও প্রচারণার দৌড়ে সারওয়ার এগিয়ে রয়েছেন বলে জানান স্থানীয় ভোটাররা।

জামালপুর ইউনিয়নে প্রতিযোগিতা হবে ত্রিমুখী। বর্তমান চেয়ারম্যান খায়রুল আলম আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান ফারুক মাস্টার এবং বিএনপির হারুন অর রশিদ দেওয়ান। হারুন অর রশিদ ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান।

বাহাদুরসাদীতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ এবং বিএনপির এসএম জয়নাল আবেদীন শেখ। এখানে আওয়ামী লীগ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মোস্তফা কামাল। জামালপুরের মতো এখানেও ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।

নাগরীতে চেয়ারম্যান পদে সর্বাধিক সংখ্যক (৭ জন) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আওয়ামী লীগ-বিএনপি ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন পাঁচজন। এখানে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে এস এম আলী আহমেদকে। বিএনপি থেকে পেয়েছেন আবদুর রহিম সরকার। বর্তমান চেয়ারম্যান সিরাজ মিয়া এবং সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মিয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়াই করছেন।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বর্তমান চেয়ারম্যান সিরাজ মিয়ার সঙ্গে সাবেক চেয়ারম্যান কাদির মিয়ার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস লক্ষ্য করছেন ভোটাররা।

তুমুলিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আবু বকর মিঞা শক্তিশালী প্রার্থী। এখানে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সিরাজ উদ্দিন। এই ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মাসুদ পারভেজ এবং মাহফুজুল হক স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

বক্তারপুর ইউনিয়নে মোট প্রার্থী তিনজন। আওয়ামী লীগ থেকে আতিকুর রহমান আখন্দ ও বিএনপি  থেকে রফিজুল ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মাওলানা জাকির হোসেন মনোনয়ন পেয়েছেন। মূলত প্রধান দুই দলের প্রার্থীর মধ্যে এখানে লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা ভোটারদের।

মোক্তারপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম সরকার তোরণ, বিএনপি থেকে রফিকুল ইসলাম পালোয়ান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে আব্দুস ছালাম প্রধান দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। বর্তমান চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম গত দুই মেয়াদের চেয়ারম্যান। এলাকায় তার রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। এবার নির্বাচিত হলে তিনি হ্যাট্রিক করবেন।

আব্দুর রহমান আরমান/এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।