পিরোজপুরে অবৈধ স`মিলের ছড়াছড়ি : প্রশাসন নিরব


প্রকাশিত: ১২:২৮ পিএম, ০৬ এপ্রিল ২০১৬

সরকারের সকল নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে এবং প্রশাসনের নাকের ডগায় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অবৈধ স`মিল (করাত কল)। সিডর পরবর্তী সময় থেকে আজ পর্যন্ত এর পরিমাণটা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে যেমন ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের অন্য দিকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে।

অভিযোগ রয়েছে বন বিভাগের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা মিল মালিকদের কাছ থেকে বাৎসরিক উৎকোচ আদায় করে। এতে করে লাভবান হয় ওই কর্মকর্তারা ও মিল মালিকরা। অপর দিকে সরকারের রাজস্ব তহবিলের খাতা শুণ্যই থেকে যায়।

মঠবাড়িয়া বন বিভাগ অফিস সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার আনাচে কানাচে মিলিয়ে প্রায় শতাধিক স`মিল রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৭টি মিলের লাইসেন্স আছে। তবে এদের অনেকেই নিয়মিতভাবে লাইসেন্স নবায়ন করছেন না। অভিযোগ রয়েছে উপকূলীয় এলাকার অনেক মিলে রাতের আঁধারে নিষিদ্ধ সুন্দরী কাঠ ও সরকারি কাঠ চেরাই করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বন বিভাগের এক কর্মচারী জানান, একটি মিলের লাইসেন্স করতে যে অর্থের প্রয়োজন হয়, বাস্তবে সেই অর্থের ৪/৫ গুণ বেশি টাকা নেওয়া হয়। যে কারণে মিল মালিকেরা লাইসেন্স করতে চান না। কর্তারা "টুপাইস" ধান্দা করে জনবল সঙ্কট দেখিয়ে মিল তদারকি যুগের পর যুগ বন্ধ করে রেখেছেন।

তিনি আরো বলেন, মিল মালিকদের একাধিক বার নোটিশ দেয়া হয়েছে। অজ্ঞাত কারণে তারা লাইসেন্স করছেন না। হয়তো কর্তাদের "ম্যানেজ" করেই এসব করছেন। এ বিষয়ে তিনি কার্যকরী মোবাইল কোর্টের দাবি জানান। তিনি মনে করেন অবৈধ মিল মালিকদের বড় ধরনের জরিমানা বা মিল সিলগালা করলে তারা লাইসেন্স করতে বাধ্য হতেন । সরকারও রাজস্ব পেত।

স`মিলের লাইসেন্স কেনো করছেন না ? একাধীক মিল মালিকের কাছে এ প্রশ্ন করা হলে তারা কোনো জবাব দিতে রাজি হননি। শুধু এটুকু জানান আমাদের ব্যাপারে অফিস অবগত আছেন।

এ ব্যাপারে মঠবাড়িয়া ও ভান্ডরিয়া উপজেলার বন কর্মকর্তা সিদ্দিকুল ইসলাম জনবল সঙ্কটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তারা সব বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

তবে মিল মালিকদের কাছ থেকে উৎকোচ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, এসব মিথ্যা।

পিরোজপুর রেঞ্জ ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা দিপঙ্কর রায় জানান, প্রতিটি স`মিল মালিককে নোটিশ করে ১ মাসের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তারা লাইসেন্স না করলে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাগেরহাট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হারুণ অর রশীদ জানান, লাইসেন্স করানোর জন্য আমরা বিভিন্ন সময় চাপ সৃষ্টি করেছি কিন্তু মিল মালিকরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েছে। এবার সব কিছুর ঊর্ধ্বে উঠে তাদেরকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে লাইসেন্স করানো হবে। সেজন্য আমরা ব্যপক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে যাচ্ছি। অচিরেই মাঠে নামা হবে।

এফএ/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।