চেয়ারম্যানের গুদামে সরকারি সার, বিক্রির সময় কৃষক-জনতার হাতে ধরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৫:৫৭ এএম, ১৫ জানুয়ারি ২০২৪

বিক্রির সময় ২০ বস্তা সরকারি সার উদ্ধার করেছে এলাকাবাসী। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুজনকে আটক করা হয়েছে।

তারা হলেন সার ও কীটনাশক বিক্রেতা নয়ন এন্টারপ্রাইজের মালিক শাহাবুদ্দিন এবং নসিমনচালক সাইফুল ইসলাম সাইফার। রোববার রাতে যশোর সদর উপজেলার হামিদপুরে এ ঘটনা ঘটে।

ফতেপুর ইউনিয়নের হামিদপুর গ্রামবাসী জানিয়েছেন, রোববার সন্ধ্যায় নসিমনচালক সাইফার আলী ২০ বস্তা সরকারি এমওপি সার নিয়ে বাজারের নয়ন এন্টারপ্রাইজে যান। সার, সিমেন্ট ও কীটনাশক বিক্রেতা শাহাব উদ্দিন আহম্মেদের দোকানে ওই সার পৌঁছালে সরকারি সার দেখে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ হয়। ফলে স্থানীয় কৃষক-জনতা খবর পেয়ে দোকান ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। পরে চানপাড়া ফাঁড়ি ও কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

স্থানীয় কৃষক রমজান আলী অভিযোগ করেন, ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন তার একটি গুদামে ওই সার গোপনে রেখে দিয়েছিলেন। রোববার একটি নসিমনে করে সার নয়ন এন্টারপ্রাইজে বিক্রি করতে পাঠান। এর কিছুদিন আগে কৃষকদের মধ্যে ওই সারের একটি অংশ বিতরণ করা হয়েছিল। বাকি সার বিক্রির চেষ্টাকালে ধরা পড়ে।

কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, এটা কৃষি প্রণোদনার সার। বিনামূল্যে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করার জন্য। কিন্তু চেয়ারম্যান সোহরাব তা আত্মসাৎ করে নয়ন এন্টারপ্রাইজের কাছে বিক্রির চেষ্টা করছিলেন। সার বহনকারী সাইফার আলী এবং দোকানি তাদের কাছে চেয়ারম্যানের সার বলে স্বীকারও করেছেন।

নসিমনচালক সাইফুল ইসলাম সাইফার জানিয়েছেন, চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেনের গুদাম থেকে ২০ বস্তা সার নিয়ে তিনি নয়ন এন্টারপ্রাইজে এসেছিলেন। চেয়ারম্যানের গুদামে আরও সার আছে।

এদিকে যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি (অপারেশন) পলাশ কুমার বলেন, এটা বিএডিসির বস্তায় সরকারি সার। স্থানীয় জনতার সন্দেহ, সারটি কৃষকদের জন্য সরকারি বরাদ্দের সার। এজন্য তারা আটক করে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও যশোর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সারসহ দুজনকে আটক করেন। একই সঙ্গে চেয়ারম্যানের গোডাউনও সিলগালা করা হয়।

ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, বিএডিসির সার দোকানে বিক্রি অবৈধ নয়। কিন্তু বৈধ কাগজপত্র থাকতে হবে। সার ক্রয়ের রশিদ দেখাতে না পারায় নসিমনচালক এবং প্রতিষ্ঠানের মালিককে আটক করা হয়। সোমবার পুরো বিষয়টি তদন্ত করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেনকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এইচআরএম/জেডএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।