বিবাহিত ও অছাত্র দিয়ে চলছে নেছারাবাদের ছাত্রলীগ-ছাত্রদল


প্রকাশিত: ১০:৫৬ এএম, ০৮ এপ্রিল ২০১৬

পিরোজপুরের নেছারাবাদে বিবাহিত, অছাত্র, সন্তান-সন্তনীর জনক দেয়েই চলছে উপজেলা ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের কার্যক্রম। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে হচ্ছেনা কোনো সম্মেলন। দুটি দলেই কার্যকরী কোনো কমিটি না থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে লেগেছে ভাটা।

উপজেলা ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলে একটি কার্যকরী কমিটির অভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রমে ক্ষমতাশীল আওয়ামী লীগের ছাত্রলীগের কিছুটা তৎপরতা দেখা গেলেও ছাত্রদল যেন রাজনৈতিক মাঠে বিলুপ্ত। তবে তৃণমূলের মধ্যে এমন ধারণা পাল্টাতে মাঝে মধ্যে ছাত্রদলের কোনো কোনো নেতা সেলফি তুলে আত্মপ্রকাশ ঘটানোর চেষ্টা করছেন সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে।
 
দলীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, নেছারাবাদ উপজেলা ছাত্রলীগের মো. শহিদুল ইসলাম রিপনকে সভাপতি এবং তৌহিদুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০০২ সালে সর্বশেষ একটি ত্রি-বার্ষিক কমিটি হয়। এরপর সাংগঠনিক নিয়ামুসারে ওই কমিটির কার্যকরী মেয়াদ শেষ হলে ২০০৭ সালে মো. আসাদুল কবির বাবুকে আহ্বায়ক এবং মো. সোহেল পারবেজকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করে তিন মাস মেয়াদি একটি আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। ওই আহ্বায়ক কমিটিতে তিন মাসের মধ্যে একটি স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার উল্লেখ থাকলেও অদ্যবধি ১০ বছরেও হয়নি কোনো কার্যকরী কমিটি।
 
জানা যায়, ২০০৭ সালের ওই তিন মাস মেয়াদী আহ্বায়ক কমিটির বর্তমান ছাত্রলীগ নেতাদের কারও নেই ছাত্রত্ব, সিহংভাগই হয়েছেন সন্তান-সন্তনীর জনক, আবার অনেকেই ছাত্রলীগ ছেড়ে চলে গেছেন মূল দলের অন্যান্য সংগঠনে। আবার, কেউ কেউ মেয়াদ উত্তীর্ণ ওই আহ্বায়ক কমিটির পদ-পদবী আকড়ে ধরে ছাত্রত্ব না থাকা সত্ত্বেও স্বাচ্ছন্দে আছেন ছাত্রলীগ পরিচয়ে।

দীর্ঘ বছর ধরে ছাত্রলীগে পদ-পদবীর আশায় শিক্ষিত নুতন যুবকেরা তৃণমূল ছাত্রলীগ নেতাদের সুসংগঠিত করে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। কমিটির কাল বিলম্বে এখন তারাও হারিয়ে ফেলেছেন উপরি নেতাদের দেওয়া আস্থা ও আশ্বাস। ছাত্রনেতারা বছরের পর বছর ধরে কমিটির অপেক্ষায় থাকার পর এখন যেন তাদেরও হারিয়ে যাচ্ছে বয়স, যৌবন।

উপজেলা ছাত্রলীগে পদবী প্রত্যাশিত কয়েকজন যুবক বলেন, বর্তমানে এ উপজেলায় সংগঠনটির ১০ বছর যাবত কোনো কমিটি না থাকায় চলছে যে যার খুশি মত। মোটকথা এক প্রকার যেন অভিভাবকহীনতায় ভুগছে উপজেলা ছাত্রলীগের তৃণমূল নেতারা। যদি অচিরেই উপজেলায় একটি মাদকমুক্ত ছাত্রলীগ কমিটি ঘোষণা হয় তাহলে আবারও ছাত্রলীগে ফিরে আসবে প্রাণবন্ততা।

অপরদিকে, সাংগঠনিক কার্যক্রমে ছাত্রলীগের এ হালচালের চেয়েও করুন রূপ বিরাজ করছে নেছারাবাদ উপজেলা ছাত্রদলের। ১৯৭৯ সালে প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া ছাত্রদলের এ উপজেলা শাখায় দীর্ঘ ১যুগ ধরে হয়নি কোনো কার্যকরী কমিটি। দলের সরকার ক্ষমতা হারানোর পর পরই এ উপজেলার মূল দলে সাংগঠনিক দুর্বলতা জনিত কারণসহ ছাত্রদলের কার্যকর কমিটি না থাকায় রাজনৈতিক মাঠ থেকে যেন বিলুপ্ত হয়ে পড়েছে এক সময়কার দেশের অধিকতর তরুনদের পছন্দনীয় এ ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম। তারপর থেকে নেতৃত্ব শূণ্যতায় বর্তমান সরকারের বিগত পাঁচ বছরের আমলে হাতেগোনা দু`চারজন ছাত্রনেতাকে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে দেখা গেলেও গত ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনের পর থেকে লাপাত্তা হয়ে পড়ে দল ক্ষমতা থাকালীন ছাত্র নেতারা। বতমার্নে এলাকাতে যারা আছেন তারাও একটি কার্যকর কমিটির অভাবে সবাইকে সুসংগঠিত করে নামাতে পারছেন না দলীয় কোনো কর্মসূচিতে। পালন হয়না ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীসহ কেন্দ্রীয় কোনো কর্মসূচি।
 
দলীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় সর্বশেষ ২০০২ সালে একটি তিন বছর মেয়াদি কমিটি হলেও কমিটির মেয়াদ ১০ বছর অতিক্রম হয়েছে। অবশ্য, কেন্দ্রীয় ঘোষণা অনুযায়ী গত কয়েকমাস আগে উপজেলায় ৩৪ জন ছাত্র নেতা নিয়ে গঠিত হয় ছাত্র দলের একটি আাহ্বায়ক কমিটি। তবে সে আহ্বায়ক কমিটির ছাত্রনেতাদের অধিকাংশেরই নেই কোনো ছাত্রত্ব। অনেকেই বিবাহ করে হয়েছেন ঘর সংসারি। ওই আহ্বায়ক কমিটির উল্লেখযোগ্য পদের সবাই বিয়ে করে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।

আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোহেল মৃধা, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আল আমীন সিকদার বলেন, স্বরূপকাঠির মাটি বিএনপির দূর্গ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু পরপর দু`বার দল ক্ষমতার বাইরে থাকাসহ ছাত্রদলের কমিটি না থাকায় দলের ঐতিহ্যে কিছু ভাটা পড়েছে। তবে অচিরেই কমিটি হলে হারানো ঐতিহ্য অবশ্যই ফিরে আসবে।

এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।