পর্যটকে ভরপুর কক্সবাজার
সপ্তাহিক ও সরকারি ছুটিতে পর্যটকে ভরপুর কক্সবাজার। হোটেল মোটেল গেস্ট হাউজগুলো শতভাগ বুকড। এতে বিগত সময়ের লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবে বলে মনে করছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে, বরাবরের মতো পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত রুমভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে টমটম চালকদের কাছে। তবে অভিযোগ সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া পর্যটকদের নিরাপত্তায় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশের। আর কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স নেতারা বলছেন, আশানুরূপ পর্যটক আসায় এ মাসে ব্যবসা হবে শতকোটি টাকার উপরে।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, পাঁচ শতাধিক হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস রয়েছে। হোটেল ব্যবসা ছাড়াও রেস্তোরাঁ, শামুক, ঝিনুক, শুটকি, বার্মিজ পণ্য বিক্রিসহ অন্যান্য মিলে ফেব্রুয়ারি মাসে শতকোটি টাকার ব্যবসা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গেল কয়েক বছর ধরে পর্যটন ব্যবসায় মন্দা গেলেও গত ডিসেম্বর থেকে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বাণিজ্যিকভাবে রেল চলাচল শুরুর পর পর্যটক খরা কাটতে শুরু করে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাড়তে থাকে পর্যটক। সরকারি এবং সাপ্তাহিক ছুটিতে এ সংখ্যা বাড়ে কয়েকগুণ। ২১শে ফেব্রুয়ারি বিকেলে সমুদ্র সৈকতের লাবনি পয়েন্ট, বঙ্গবন্ধু পয়েন্ট এবং কলাতলী পয়েন্টে পর্যটকদের ভিড় দেখা যায়। পর্যটকদের কেউ কেউ সৈকতের বালিয়াড়িতে ঘোড়ায় চড়ে, কেউ ছবি তুলে, কেউ বিচ বাইকে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অনেকে সমুদ্রের নীল জলরাশিতে পা ভিজিয়ে নিচ্ছেন। তবে পর্যটকের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো।
কলাতলী পয়েন্টে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, বন্ধুরা মিলে কক্সবাজারে এসেছি। কিন্তু কোনো হোটেলে রুম না পেয়ে রাতেই ঢাকায় ফিরবো।
লাবনি পয়েন্টে কথা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদ্দাম হোসেন, রাকিব, সাজ্জাদ হোসেনসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে। তারা জানান, শিক্ষকসহ প্রায় ৭০ জন কক্সবাজারে এসেছি। সৈকতে যতবার আসি ততবার ভালো লাগে। তবে পর্যটন স্পটগুলো আগের মতোই রয়ে গেছে। কোথাও কোনো সৌন্দর্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা ব্যবসায়ী আরিফুর রহমান বলেন, ব্যস্ততা ও ছেলে মেয়েদের পড়ালেখার কারণে বেড়ানোর সুযোগ তেমন হয় না। তাই দুই দিনের জন্য কক্সবাজারে এসেছি। তবে সৈকত ছাড়া এখানে বেড়ানোর কোনো জায়গা নেই। বলতে গেলে একদিন পর কক্সবাজারে আর ভালো লাগছে না।

আফজালুর রহিম নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, রেলে চড়ে কক্সবাজার নেমেই টমটম চালকদের কাছে হয়রানির শিকার হয়েছি। জঘন্য তাদের আচরণ। এরপরে দ্বিতীয়বার হয়রানির শিকার হতে হয় হোটেল ভাড়া নিয়ে। প্রতিটি রুমের ভাড়া দিতে হয়েছে পাঁচ হাজারের উপরে।
সৈকতে কথা বলা বেশিরভাগ পর্যটক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের সবকিছু পাল্টিয়েছে কিন্তু বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতকে সাজানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সৈকত ছাড়া ঘুরে বেড়ানোর আর কোনো জায়গাও নেই। অথচ পর্যটকরা টাকা খরচ করতে কক্সবাজারে আসেন।
হোটেল সী-প্রিন্সেসের সিনিয়র ম্যানেজার মাজেদুল বশর চৌধুরী সুজন বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় কক্সবাজারে পর্যটক আসতে শুরু করেছে। আমাদের হোটেলে পুরো মাস শতভাগ বুকিং রয়েছে।
হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিচ হলিডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাফিজুর রহমান লাভলু বলেন, পর্যটক আসায় ব্যবসা ভালো হচ্ছে। আশা করছি বিগত সময়ের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবো।

হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেলিম নেওয়াজ বলেন, সমিতিভুক্ত কোনো হোটেল বা গেস্টহাউস কর্তৃপক্ষ যদি অতিরিক্ত টাকায় আদায় করে তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সমিতির বাইরে যারা আছে তাদের বিষয়ে কিছুই বলতে পারছি না।
পর্যটকের কাছ থেকে অতিরিক্ত রুম ভাড়া আদায়ের কোনো অভিযোগ পাইনি বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়ামিন হোসেন। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত কোনো পর্যটক অভিযোগ দেননি। এরপরও পর্যটকদের নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসন মাঠে রয়েছে।
অপরদিকে, পর্যটকদের নিরাপত্তায় কঠোর ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিওনের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ। তিনি বলেন, পর্যটকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে কাজ করে যাচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। হয়রানির অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এএইচ/জেআইএম