পিরোজপুরে ১৬ বছর ধরে চলছে কারাগার নির্মাণ
কচ্ছপ গতিতে ১৬ বছর ধরে চলছে পিরোজপুর জেলা কারাগারের নির্মাণ কাজ। কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেনা কেউ। এ পর্যন্ত ৫০% ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে পিরোজপুরের জেলার এজি মাহমুদ জানিয়েছেন।
১৯৯৯ সালে সূচিত ও ২০০০ সালের ২৬ মে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। তখন ৪২ কোটি টাকা নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিলো কারাগারের জন্য। এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ কোটি টাকার কাজ হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ বছর বন্ধও ছিল জেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ এ নির্মাণ প্রকল্পটি। ২০০৬ সাল পর্যন্ত এক কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ের পর অর্থাভাবে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ২০১১ সালে সংশোধিত আকারে ৪১ কোটি ৯৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকার অনুমোদিত প্রকল্প মূল্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ কারাগারের নির্মাণ আবার শুরু করা হলেও ২০১১-১২ ও ১৩ এ তিন বছরে কাজের অগ্রগতি ছিল সামান্যই। 
পিরোজপুর শহরতলীর ঝাটকাঠীতে পিরোজপুর-নাজিরপুর বাইপাশ সড়কের পাশে সাড়ে নয় একর জমির উপর এ নবনির্মিত কারাগারের অবস্থান। গণপূর্ত অধিদফতরের বাস্তবায়নাধীন এ কাজের মধ্যে রয়েছে কারা কর্মকর্তাদের কার্যালয়, জেলারের বাসভবন, প্রিজনার্স ওয়ার্কশেড, সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি ব্যারাক, কিশোর কয়েদি ব্যারাক, মহিলা কয়েদি ব্যারাক, (সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন) বাউন্ডারি ওয়াল ও সেগ্রিগেশন ওয়াল ইত্যাদি। কোনো কোনো কাজের ৯০% ভাগ আবার কোনো কোনো কাজের ২০% ভাগ অগ্রগতি রয়েছে।
অপরদিকে স্টাফ কোয়ার্টার, বহিঃপানি সরবরাহ এবং ওয়েস্ট ওয়াটার ডিসপোজাল, বহিঃবিদ্যুৎ অটোস্টার্ট জেনারেটর ,অগ্নিনির্বাপক, রাস্তা ও ফুটপাত এবং রেইন ওয়াটার হারভেসটিং এ্যান্ড সোলার সিস্টেম ইত্যাদি নির্মাণ অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
গণপূর্ত বিভাগ ও জেলা কারাগারের জেলার এজি মাহমুদ জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে তিনটি জেলা কারাগারের অবকাঠামো নির্মাণ এবং দুটি জেলা কারাগারের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তকরণ র্শীষক প্রকপ্লের আওতায় পিরোজপুর জেলা কারাগারের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করতে আট বছর মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।
১৯৯৯ সালের পর জেলা কারাগারের ভূমি উন্নয়ন, বাউন্ডারি ওয়ালসহ কিছু নির্মাণ হলেও নানা কারণে ১২ বছরে কাজের অগ্রগতি ছিল অতি সামান্য। ২০১১ সালে আট বছর মেয়দে প্রকল্প সংশোধিত আকারে পুনরায় শুরু হয়। এক যুগ পর নতুন করে চার বছরের মাথায় এ প্রকল্পের অগ্রগতির হার দাঁড়িয়েছে সর্ব সাকুল্যে মাত্র ৪০%। 
তিনি আরো জানান, নতুন পর্যায়ে প্রথম তিন বছরে কাজ তেমন না আগালেও বর্তমানে অর্থের যোগানসহ কাজের গতি সন্তোষজনক। ২০১৮ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করার কথা রয়েছে। তবে অতীতের ন্যায় কোনো কারণে অর্থ বরাদ্ধ ব্যহত না হলে এ ধারায় কাজ চলতে থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কারাগারের নির্মাণ কাজ শেষ হবে।
জেলার সচেতন মহল, বিজ্ঞ বিচারক, আইনজীবী, আদালত, বিচার প্রার্থী ও বন্দীসহ সকল মহলের এখন দাবি নব-নির্মিত জেলা কারাগারটির নির্মাণ কাজ অতিদ্রুত সম্পন্ন করে এখানে নতুন পরিবেশ গড়ে তুলে বন্দীদেরকে আধুনিক সকল সুযোগ-সুবিধার ব্যাবস্থা করে তাদেরকে মানবেতর জীবন-যাপনের হাত থেকে রক্ষা করা হোক।
এফএ/এমএস