ঝালকাঠিতে কারাবন্দিদের আয়োজনে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান


প্রকাশিত: ০৬:৫৯ এএম, ১৪ এপ্রিল ২০১৬

ঝালকাঠিতে কারাবন্দিদের আয়োজনে বাংলা নববর্ষ বরণে বর্ণাঢ্য উৎসব পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে সকাল থেকে কারাগারের ভিতরে কারাবন্দিরা সংগীত, নৃত্য ও অভিনয় পরিবেশন করেছেন। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার বর্ষবরণের দিন বন্দিদের মাঝে বৈশাখী উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে।
    
ঝালকাঠি জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বাঙালির সার্বজনীন প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ বরণে ব্যাপক কর্মসূচি পালন করেছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬ টায় শিশু পার্ক মুক্তমঞ্চে নববর্ষের সূচনা ও প্রভাতি অনুষ্ঠান। সকাল ৮ টায় শিল্পী গোষ্ঠী ও সর্বসাধারণের সমন্বয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা।  

জেলা প্রশাসক মো. মিজানুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে শোভাযাত্রায় অংশ নেন জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সরদার মো. শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির, পুলিশ সুপার সুভাষ চন্দ্র সাহা, সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুর রহিম, নবনির্বাচিত পৌর মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদার, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতান হোসেন খান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মকবুল হোসেনসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আইনজীবী, শিক্ষক, ছাত্র, টিআইবি, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক লোকজন।

সকাল সাড়ে ৮ টায় শিশু পার্ক মুক্তমঞ্চ সংলগ্ন আ. ওয়াহাব গাজী শিশু বিদ্যালয় চত্বরে পান্তা উৎসবের পর মুক্তমঞ্চে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালন করা হয়। সকাল ৯ টায় স্ব-স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়। শিশু পার্ক মুক্তমঞ্চে বেলা ১১ টায় লোক নৃত্য প্রতিযোগিতা ও দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। দুপুরে জেলখানা, এতিমখানা ও হাসপাতালে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন এবং দিনব্যাপি কারাগারে কারাবন্দিদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালন করা হয়।

জেলার মো. শরিফুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বর্ষবরণ উপলক্ষে বন্দিদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করা হয়। অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল সংগীত পরিবেশন, নৃত্য ও অভিনয়। এছাড়াও সকালে রুটির পরিবর্তে পান্তা, বেগুন ভাজি, আলু ভর্তা ও দুপুরে মুরগি, আলু, ডালের খিচুরি এবং রাতে সাদা ভাত-মুরগীর ব্যবস্থা রয়েছে। বন্দিদের জন্য বিশেষ আয়োজন ছিল বাঙালির ঐতিহ্যবাহী জিলাপি ও বাতাসা দিয়ে মিষ্টি মুখ।

এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাঙালিয়ানা উৎসবের মধ্য দিয়ে বৈশাখ বরণ করা হয়। নতুন কলেজরোডস্থ স্যাংগুইন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষকদের সহায়তায় ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের বাংলার কৃষকদের পরিশ্রম অনুভূত করতে ধান রোপণ ও কাটার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

আতিকুর রহমান/এসএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।