কাঁঠালিয়ায় প্রেমিকের আত্মহত্যা : প্রেমিকাসহ ৪ জনের নামে মামলা
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় প্রেমিকার বাসার সামনে কলেজছাত্রের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রেমিকাসহ ৪ জনের নামে আত্মহত্যা প্ররোচণায় মামলা করা হয়েছে।
কাঁঠালিয়া গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ও প্রেমিকা সুমি আক্তারকে (১৭) প্রধান আসামি করে ৪ জনের নামে আত্মহত্যা প্ররোচনায় (৬০৩ ধারায়) নিহত কলেজ ছাত্র রহমত উল্লাহর বাবা আ. হক আকন বাদী হয়ে সোমবার কাাঁঠালিয়া থানায় এ মামলা দায়ের করেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন, প্রেমিকা সুমির স্বামী তৌহিদ (২৫), বাবা মাহাতাব উদ্দিন আকন (৫০) ও মা মাহাফুজা বেগম (৪০)।
নিহত রহমত উল্লাহ উত্তর আউরা গ্রামের আকনপাড়ার আব্দুল হক আকনের ছেলে ও কাঁঠালিয়া তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ১ এপ্রিল শুক্রবার বিকেলে প্রেমিকা সুমি দাওয়াত খাওয়ানোর জন্য প্রেমিক রহমত উল্লাহকে ডেকে তাদের বাসায় নেয় এবং রাতে সে সুমিদের বাড়িতে থাকবে, এ কথা রহমত উল্লাহ বাড়ি থেকে যাবার সময় তার মাকে বলে যায়।
ওই দিন বিকেলে বাসার পার্শ্ববর্তী বিষখালী বেড়িবাঁধে সুমি ও রহমত উল্লাহ দু‘জনে ঘোরাফেরা করেছে। পরের দিন সকালে (২এপ্রিল) লোকমুখে পরিবার জানতে পায় সুমির বাসার সামনে রহমত উল্লাহর মৃতদেহ ঝুলছে।
প্রেমিকা সুমি বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে তার মা মাহাফুজা, বাবা মাহাতাব আকন ও তার স্বামী তৌহিতসহ আরো ২/৩ জন মিলে রহমত উল্লাহকে নির্যাতন করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার অপপ্রচার চালিয়ে আসছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
কাঁঠালিয়া থানা পুলিশের ওসি মো. জাহিদ হোসেন বলেন, রহমত উল্লার পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা করতে চেয়েছিল। রিপোর্ট না পাওয়ায় এ মামলা গ্রহণ করা যায় না। তাই ‘আত্মহত্যার প্ররোচনায়’ ৬০৩ ধারায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২ এপ্রিল কাঁঠালিয়া বন্দরের ব্যবসায়ী মাহতাব উদ্দিন আকনের বাসা সংলগ্ন কাঁঠাল গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় কলেজছাত্র রহমত উল্লাহ (১৯) এর মৃতদেহ পুলিশ উদ্ধার করে। সোমবার (৪ এপ্রিল) রহমত উল্লাহকে হত্যার প্রতিবাদ ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সহপাঠী, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
আতিকুর রহমান/ এমএএস/পিআর