বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক কাছিমের বাচ্চা অবমুক্ত
কক্সবাজারের টেকনাফ বঙ্গোপসাগরে ৭৯২টি সামুদ্রিক কাছিমের বাচ্চা অবমুক্ত করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে টেকনাফ বাহারছড়া শীলখালী বাইন্যাপাড়া সৈকত এলাকায় এসব কাছিমের বাচ্চা অবমুক্ত করা হয়।
পরিবেশ অধিদফতরের সহযোগী সংস্থা ক্রেল তাদের বাস্তবায়িত প্রকল্পের অংশ হিসেবে অবমুক্তকরণ কর্মসূচি পালন করেছে। ক্রেল কর্তৃক উৎপাদিত এ পর্যন্ত তিন হাজার ৯৯৬ টি কাছিমের বাচ্চা সাগরে অবমুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
অবমুক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাহারছড়া ইউপির নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান মৌলভী আজিজ উদ্দিন, শীলখালীসহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক সভাপতি মো. সাইফুল্লাহ, শীলখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন, শীলখালী সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি তহুরা জয়নাব বেবি প্রমুখ।
সূত্র জানায়, পরিবেশ অধিদফতরের সহযোগী সংস্থা ক্রেল প্রকল্পের আওতায় টেকনাফের সৈকত এলাকায় তিনটি হ্যাচারীর মাধ্যমে কচ্ছপের ডিম সংরক্ষণ করা হয়। এ হ্যাচারীগুলো হলো, শাহপরীরদ্বীপ বদমমোকাম, বাহারছড়া শীলখালী বাইন্যাপাড়া, সেন্টমার্টিন মেরিনপার্ক।
হ্যাচারীগুলোতে জানুয়ারির শেষের দিক থেকে এ পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৭৮৩টি কাছিমের ডিম সংরক্ষণ করা হয়। এসব হ্যাচারী থেকে এ পর্যন্ত তিন হাজার ৯৯৬টি কাছিমের বাচ্চা অবমুক্ত করা হয়। এখনো এক হাজার ৫৮৭টি ডিম হ্যাচারীগুলোতে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
পরিবেশ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, কচ্ছপ সাগরের ময়লা আর্বজনা খেয়ে পানিকে পরিষ্কার রাখে এবং মাছের বংশ বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করে। সাগরে জেলি ফিস লাখ লাখ মাছের পোনা ধংস করে। কচ্ছপ এ জেলি ফিস খেয়ে মাছ রক্ষা ও বংশ বিস্তারে সহযোগিতা করে। এজন্য কচ্ছপকে সমুদ্রের ঝাড়ুদার বলা হয়।
শীলখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানান, অলিভ রিডলে নামক মা কচ্ছপ হাজার হাজার মাইল দূর থেকে এসে বাংলাদেশের বঙ্গোসাগরে ডিম পাড়ে। আসার পথে সাগরে ট্রলার, জাহাজ, বোটে বাধাগ্রস্ত ও জেলের জালে আটকা পড়ে প্রাণ হারাচ্ছে। তাছাড়া বীচের পাড়ে আলো ও মানুষের হৈ চৈ থাকলে ডিম না পেড়ে সাগরে চলে যায় এসব মা কচ্ছপ।
সাগর পাড়ে ডিম পাড়লেও শিয়াল, কুকুর এবং গুঁই সাপসহ অন্য হিংস্র প্রাণী কচ্ছপের ডিম খেয়ে ফেলে ও নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ফলে দিন দিন কচ্ছপের বংশ বিস্তার কমে যাচ্ছে। বর্তমানে কচ্ছপ রক্ষায় সরকার ও স্থানীয়দের ভূমিকার প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
সায়ীদ আলমগীর/এআরএ/পিআর