সাংগ্রেং উৎসবের শেষদিনে রাখাইন পল্লীতে উচ্ছ্বাস
তারুণ্যের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের মধ্যদিয়ে মঙ্গলবার শেষ হয়ে গেল কক্সবাজারের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রাখাইন সম্প্রদায়ের ৩ দিনের বর্ষবরণ উৎসব ‘সাংগ্রেং পোয়ে’। স্থানীয়দের কাছে ‘পানিখেলা’, দেশবাসীর কাছে ‘জলকেলি’ উৎসব নামে পরিচিত এ উৎসবটি রাখাইন সম্প্রদায়ের বৃহত্তম সামাজিক উৎসব।
জানা যায়, কক্সবাজারের রাখাইন সম্প্রদায় প্রতিবেশী বার্মিজদের সঙ্গে একই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী রাখাইন নববর্ষ পালন করে। চলতি বছর বাংলাদেশের প্রায় অর্ধলক্ষ রাখাইন প্রতিবেশী মিয়ানমারের আরাকানে বসবাসকারী রাখাইনদের সঙ্গে একই সময়ে ১৩৭৮ রাখাইন অব্দ উদযাপন করে।
চলতি বছর কক্সবাজার শহর ও উপজেলায় প্রায় ৪০টি প্যান্ডেলে চলেছে সাংগ্রেং পোয়ে উৎসবের আনন্দযজ্ঞ। শুধু রাখাইন সম্প্রদায় নয়, দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজন উৎসব দেখতে ভিড় জমান। তিনদিন ধরে চলা উৎসবের শেষদিন মঙ্গলবার ছিল রাখাইন পল্লীতে তরুণ-তরুণীদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস।
রাখাইন সম্প্রদায়ের নেতা উবাচং জানান, ‘চৈত্র সংক্রান্তি থেকে রাখাইনদের বর্ষবরণ উৎসব শুরু হয়। এ উৎসব চলে সপ্তাহজুড়ে। উৎসবের প্রথম তিনদিন ধর্মীয় এবং শেষদিন সামাজিক উৎসবের মাধ্যমে উদযাপন করা হয়। এরমধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্ব ‘পানিখেলা’ বৈশাখের চতুর্থদিন থেকে ষষ্ঠদিন পর্যন্ত চলে।
উৎসবস্থল ঘুরে দেখা গেছে, শহরের গোলদীঘির পাড়, ফুলবাগ, টেকপাড়া, ক্যাংপাড়া, হাঙ্গরপাড়াসহ রাখাইন পল্লীর বিভিন্ন এলাকায় এবছর প্রায় ৪০টি প্যান্ডেলে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। উৎসব চলাকালে রাখাইন তরুণ-তরুণীরা নেচে গেয়ে, একে অপরের শরীরে জল ছিটিয়ে উৎসব পালন করে। এ সময় তরুণদের বিভিন্ন দল বাদ্যযন্ত্র নিয়ে নাচতে নাচতে বিভিন্ন প্যান্ডেল গিয়ে তরুণীদের পানি ছিটিয়ে দেয়।
চৌফলদন্ডীর তরুণ ইউ মংথিন রাখাইন বলেন, আমরা এই উৎসবের জন্য অপেক্ষায় থাকি। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সেজে জল ছিটিয়ে পুরনো বছরের সব গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে বরণ করে নিই। এবারো হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নে সবাই নেচে গেয়ে আনন্দ-উল্লাসে নতুন বছরকে বরণ করেছি।
কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যক্ষ ক্যাথিং অং জানান, রাখাইন অব্দের ১৩৭৭ সালকে বিদায় এবং নতুন ১৩৭৮ বছরকে বরণে আয়োজিত ‘সাংগ্রেং পোয়ে’ সব সম্প্রদায়ের সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়। পর্যটন শহর হিসেবে দেশি-বিদেশি পর্যটকরাও রাখাইন সম্প্রদায়ের এ অনুষ্ঠানে ভিড় জমিয়েছেন। আমরা সুষ্ঠু পরিবেশে বর্ষবরণ করতে পেরে আনন্দিত।
সায়ীদ আলমগীর/বিএ