গাবখান চ্যানেল খননে শুভংকরের ফাঁকি


প্রকাশিত: ০৫:১৪ এএম, ২৪ এপ্রিল ২০১৬

নাব্যতা সঙ্কট আর দুই পাশে চর জমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক রুটের এ চ্যানেলটি এখন অনেকাংশে হুমকির মুখে। এ অবস্থার উত্তরণে কয়েক মাস ধরে ড্রেজিং বিভাগ খনন শুরু করলেও তাতেও চলছে শুভংকরের ফাঁকি।

নৌযান চালক ও মালিকরা অভিযোগ করেছেন, ভরা জোয়ারে নামে মাত্র খনন চলছে। খননকৃত মাটি নদীর পাড়েই ফেলছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে চ্যানেলটি।

এ চ্যানেল দিয়ে প্রতিদিন অভ্যন্তরীণ ও ভারতীয় জাহাজ এবং ঢাকা-খুলনা রুটের যাত্রীবাহী জাহাজ যাতায়াত করছে। এমনকি চট্টগ্রাম থেকে মংলা, যশোর, খুলনা, নওহাটা ও বেনাপোলে বাণিজ্যিক জাহাজ যাতায়াত করে। বাংলাদেশ থেকে নদী পথে ভারত আসা যাওয়ার রুট হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ড্রেজিং বিভাগ নদীর চর কেটে মাটি পাশেই রাখছে। পাশে রাখা মাটি জোয়ারের পানিতে মিশে আবার সেই খনন স্থানে গিয়ে নামছে।

Gabkhan

বিআইডব্লিউটিসির জাহাজ এমভি মধুমতির মাস্টার ক্যাপ্টেন আবিদ মোহাম্মদ বদরুল আলম বলেন, গাবখান চ্যানেল খননে দৃশ্যমান কোনো কাজ হচ্ছে না। ঝালকাঠি ব্রিজের নিচে বাম পাশ থেকে খনন চলছে। এটি অত্যন্ত জটিল স্পট। চ্যানেলের মুখেরও এক পাশে খনন করা হয়নি।

তিনি বলেন, এ চ্যানেল থেকে বড় জাহাজ চলাচলে ৫/৬ মিটার গভীরতা দরকার। কিন্তু ড্রেজিং বিভাগের খননে এ গভীরতা ৭/৮ ফিটের বেশি হচ্ছে না। তাছাড়া নদীর কিনার থেকে মাটি ফেলে কিনারে রাখছে। যা বৃষ্টিতে ধুয়ে যাবে।

বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল মালিক সমিতির নির্বাহী সদস্য মো. ইউনুস জানান, গাবখান চ্যানেল বন্ধ হয়ে গেলে পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে সুন্দরবন ও বরগুনা উপকূল হয়ে বেশি পথ পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে যেতে হবে। অথচ চ্যানেলটি খননে বাস্তব পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

Gabkhan

বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিদর্শক রিয়াদ হোসেন বলেন, এ মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র সব বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে সভা হয়। সেখানে ড্রেজিং ছিল আলোচনার প্রধান বিষয়। খননের অভাবে নৌযান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটলে তারা সংশ্লিষ্ট দফতরে অবহিত করবেন।

ড্রেজিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (গাবখান চ্যানেলে দায়িত্বরত) মো. সফিউল্লাহ বলেন, গাবখান চ্যানেল খননে বর্তমানে ঝালকাঠি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় খনন চলছে। এর আগে গাবখান চ্যানেলের মুখ কাটা হয়েছে। অবশ্য চ্যানেলের মুখের পূর্ব পাশে স্থানীয় লোকজনের বাধার কারণে খনন করা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, চ্যানেলের গভীরতা কমপক্ষে ১০ ফিট থাকবে। তবে নৌযান চালকরা যদি মনে করেন যে, গভীররতা সঠিক হচ্ছে না তবে তারা অবহিত করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আতিকুর রহমান/এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।