৯ দফা দাবিতে রূপগঞ্জে অয়েল মিল শ্রমিকদের বিক্ষোভ


প্রকাশিত: ০৬:১৪ এএম, ৩০ এপ্রিল ২০১৬

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভার রূপসী এলাকায় বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেড নামে একটি তেলের মিলে ৯ দফা দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। উত্তেজিত শ্রমিকরা কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেন।

শনিবার সকালে এ শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। এসময় কারখানায় ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস ভাঙচুর করেন শ্রমিকরা।

শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রূপসী এলাকার বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেড নামে তেলের মিলে প্রায় সাড়ে ৫ শতাধীক শ্রমিক কাজ করেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মিল কর্তৃপক্ষের কাছে ৯ দফা দাবি পেশ করে মিলের সামনে অবস্থান করেন শ্রমিকরা। এসময় শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে কোনো প্রকার উত্তর না পাওয়ায় শ্রমিকরা দফায় দফায় বিক্ষোভ শুরু করেন এবং উত্তেজিত শ্রমিকরা কারখানার ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস ভাঙচুর করেন।

শ্রমিকরা অভিযোগ করে জানান, কোম্পানির নিয়োজিত ঠিকাদার দেলোয়ার ভুইয়া, বকুল, ফখরুল, কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা কল্যাণ চাকমা, কামাল হোসেন ও পিএম শিশির বাবু প্রায় সময়ই শ্রমিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও নির্যাতন করে থাকেন। শ্রমিকদের নামাজ পড়তেও দেননা তারা। নামাজের সময়টুকু বেতন থেকে কেটে রাখা হয়। এছাড়া প্রতি আট ঘণ্টায় একবার টয়লেটে যাওয়ার অনুমতি রয়েছে। কারখানায় কাজ করতে গিয়ে কোনো শ্রমিক আহতের ঘটনা ঘটলে কোনো খরচও দেয়া হয়না। বরং সকল শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে আহত শ্রমিকের চিকিৎসা করাতে হয়।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে শ্রমিকদের দাবিগুলো হলো, ক্যাজুয়ালদের হাজিরা বৃদ্ধি করতে হবে। যারা ক্যাজুয়াল ওয়ার্কার আছে তাদের প্রত্যেকের বেতন বাড়াতে হবে। প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে বেতন বাড়াতে হবে, কারখানা কর্তৃপক্ষ চাচ্ছে সিফট ডিউটি করানোর জন্য। ম্যানেজমেন্টের ডিউটির গ্যারান্টি দিতে হবে, সিফট ডিউটি করলে তিনটি সিফটে সমান সংখ্যক ক্যাজুয়াল রাখতে হবে, সরকারি ছুটির দিনে ছুটি দিতে হবে, সরকারি ছুটির দিন যদি প্রোডাকশন চালু রাখা হয় তাহলে ডাবল হাজিরা দিতে হবে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ক্যাজুয়াল শ্রমিক কম রাখা যাবেনা, ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের ঈদ বোনাস মুল বেতনের ৫০ ভাগ দিতে হবে, ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে, কারখানার কর্তৃপক্ষ ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের চাকরিচুত্য করতে পারবেনা। কোনো ক্যাজুয়াল শ্রমিকের ব্যপারে কর্মকর্তাদের অসন্তুষ্টি থাকলে বিডিএফদের সঙ্গে কথা বলতে হবে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা কল্যাণ চাকমা বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক না। এছাড়া কারখানার কার্যক্রম নিয়মের মধ্যেই চলছে।

মীর আব্দুল আলীম/এফএ/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।