ঠাকুরগাঁওয়ের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে পঞ্চগড়ে মামলা


প্রকাশিত: ০৭:২৯ এএম, ২০ মে ২০১৬

পঞ্চগড়ের সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক সুভেন্দু কুমার দেবনাথের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। বুধবার রোগীর বাবা বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দেবীগঞ্জ আদালতে চিকিৎসকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেন।

রোগীর পরিবারের লোকজন জানায়, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরদিঘী ইউনিয়নের দেওয়ানডাঙ্গা এলাকার আব্দুল মজিদ তার সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ের পেটের ব্যথা নিয়ে ডা. সুভেন্দু কুমার দেবনাথের কাছে যান। প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা শেষে এপেন্ডিকসের ব্যথার কথা বলে গত ২৫ ডিসেম্বর তিনি ঠাকুরগাঁও সিটি ক্লিনিকে তার অস্ত্রোপচার করেন।

কিন্তু অস্ত্রোপচারের পরও হাফিজা আকতারের ক্রমাগত শারীরিক অবনতি হতে থাকে। এরপর ক্লিনিকেই কেটে যায় চার মাস। খরচ হয় লাখ টাকার বেশি। গত ২৪ এপ্রিল আব্দুল মজিদ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক মো. আব্দুল হাদির কাছে মেয়েকে নিয়ে যান।

আবারও প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হন তার মেয়ের ভুল অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। রোগীর অবস্থা দেখে ডা. আব্দুল হাদি ঠাকুরগাওয়ের ডা. সুভেন্দু কুমার দেবনাথকে ফোন করে বিস্তারিত জানতে চান। তবে তাৎক্ষণিক তিনি অস্ত্রোপচারের কথা অস্বীকার করেন। আরেক দফায় তার অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে এখনও আশঙ্কামুক্ত নয় সে।

এ ঘটনায় অবশেষে বুধবার আদালতে আশ্রয় নেন আব্দুল মজিদ। তিনি ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতলের চিকিৎসক সুভেন্দু কুমার দেবনাথ, ঠাকুরগাঁও শহরের সিটি ক্লিনিকের সত্ত্বাধিকারী আজগর আলী এবং এনেসথেসিওলোজিস্ট ডা. সুমনকে বিবাদী করে একটি ফৌজদারি মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয় এই তিনজন তাদের ফুসলিয়ে চিকিৎসার নামে ওই ছাত্রীকে মৃত্যুও মুখে ঠেলে দিয়েছে।

Panchagarh

মামলার বিবরণে বলা হয়, আসামিরা নানা অজুহাতে এবং জোরপূর্বক রোগীকে তাদের ব্যক্তিগত ক্লিনিকে চার মাস আটকে রাখেন। অস্ত্রোপচারে ভুল হয়েছে বুঝতে পেরে চিকিৎসা দেয়ার নামে তারা টালবাহানা করতে থাকেন। সর্বোপরি তারা ভুল চিকিৎসা করে এবং রোগীর আর্থিক ও শারীরিক ক্ষতি সাধন করেন। যা ফৌজদারি বিভিন্ন ধারায় দণ্ডনীয় অপরাধ।

মামলার বাদী আব্দুল মজিদ বলেন, আমাদের সহজ সরল পেয়ে ওই ডাক্তার আমার মেয়েকে মৃত্যুর দুয়ারে ঠেলে দিয়েছিল। ওরা ভুল চিকিৎসা করে আমাদের আটকে রেখেছিলেন। অন্য কোনো ডাক্তারের কাছে যেতে দেননি। ক্লিনিকের মালিক ও ডাক্তার মিলে আমার কাছ থেকে এক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। উপযুক্ত বিচারের আশায় আমি মামলা করেছি।

ওই ছাত্রীর বড় বোন নাসরীন আক্তার বলেন, ছোট বোনের অবস্থার অবনতি দেখে কৌশলে রংপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার ডাক্তার আব্দুল হাদী রোগীর অবস্থা দেখে ঠাকুরগাঁওয়ের ডাক্তার সুবেন্দু কুমার দেবনাথের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তবে তিনি মোবাইল ফোনে তাৎক্ষণিক অপারেশনের কথা অস্বীকার করেন। পরে ব্যবস্থাপত্রসহ অন্য কাগজপত্রের কথা বললে তিনি অস্ত্রোপচারের কথা স্বীকার করেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, আমার মক্কেল আব্দুল মজিদ চিকিৎকের অবহেলায় প্রতারিত হয়েছে। ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে তাকে মৃত্যু মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছিল। এটা ৪৪০, ৩০৭, ৩২৬, ৪২৭, ৫০৬(২) ধারায় অপরাধ সংঘঠিত হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। প্রতিকারের আশায় আমার মক্কেল এসব ধারায় তিনজনের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পঞ্চগড় সিভিল সার্জন মহোদয়কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

এ নিয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত চিকিৎসক সুবেন্দু কুমার দেবনাথ বলেন, হাফিজা আকতারের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা অনুযায়ী সঠিক অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তাকে আরও কয়েকদিন ক্লিনিকে থাকতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি কথা শোনেনি।

রংপুরের চিকিৎসক ডা. হাদীর সঙ্গে কথা হয়েছে বলে স্বীকার করেন অভিযুক্ত চিকিসক। তবে মামলার ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না দাবি করে বলেন, যদি মামলা হয়ে থাকে তাহলে আইনগতভাবেই বিষয়টি দেখা হবে।  

সফিকুল আলম/এসএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।