বাড়লো আবাসন ঋণের সীমা, সহজ হবে ফ্ল্যাট কেনা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৫০ পিএম, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
আবাসন খাতে ঋণসীমা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক/ফাইল ছবি

রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং খাতকে গতিশীল করতে আবাসন ঋণের সর্বোচ্চ সীমা পুনর্নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন আবাসন খাতে সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যাবে।

গত ৬ জানুয়ারি জারি করা এক সার্কুলারের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। ঋণ সুবিধা বাড়ায় এখন মধ্যম ও উচ্চ-মধ্যম আয়ের মানুষদের জন্য ফ্ল্যাট কেনা আরও কিছুটা সহজ হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানিয়েছে, রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আবাসন ঋণের সীমা বাড়ানোর দাবিতে রিহ্যাবের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে একাধিক চিঠি দেওয়া হয় এবং তিন থেকে চার দফা বৈঠক ও নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণের সর্বোচ্চ সীমা বাড়ানোর সার্কুলার জারি করে।

রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, আমাদের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই স্থবির আবাসন খাত সচল করতে নানান উদ্যোগ নিয়েছে। ড্যাপ ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করেছে। পাশাপাশি আবাসন ঋণের সীমা ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়ানোয় বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিনির্ধারকদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

তিনি বলেন, আগে আবাসন ঋণের সীমা কম থাকায় অনেক নাগরিকের জন্য ফ্ল্যাট বা বাড়ি কেনা কঠিন হতো। ঋণ সুবিধা বাড়লে মধ্যম ও উচ্চ-মধ্যম আয়ের মানুষ সহজে ফ্ল্যাট কিনতে পারবেন। এ লক্ষ্যেই রিহ্যাব বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ঋণসীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিল।

নতুন নির্দেশনায় খেলাপি ঋণের হারের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোর জন্য ঋণ দেওয়ার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৫ শতাংশের নিচে, তারা সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত আবাসন ঋণ দিতে পারবে। খেলাপি ঋণ ৫ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে হলে সর্বোচ্চ ঋণসীমা ৩ কোটি টাকা এবং খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের বেশি হলে সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া যাবে।

তবে ঋণ-ইক্যুইটি অনুপাত ৭০:৩০ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ঋণগ্রহীতার আয় ও পরিশোধ সক্ষমতা যথাযথভাবে যাচাই করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আবাসন ঋণের সর্বোচ্চ সীমা বাড়ানোর ফলে রিয়েল এস্টেট খাতে চাহিদা বাড়বে। ব্যক্তি ও পরিবারগুলো উচ্চমূল্যের ফ্ল্যাট বা ভালো লোকেশনের আবাসন কিনতে উৎসাহিত হবে। এতে নির্মাতা ও ডেভেলপাররা নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে পারবেন, যা পুরো খাতকে গতিশীল করবে।

এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ও বড় প্রকল্পে ঋণের প্রবাহ বাড়লে নির্মাণ খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প—যেমন রড, সিমেন্ট ও নির্মাণসামগ্রী উৎপাদন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সার্বিকভাবে, রিহ্যাবের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত আবাসন খাতের জন্য স্বস্তি নিয়ে এসেছে। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্যই এটি সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে গৃহায়ন খাতে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরতে পারে।

ইএআর/এমকেআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।