দ্বিগুণ প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়ার পরও কমেছে মূল্যসূচক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৪৩ পিএম, ০৪ মার্চ ২০২৬
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ভবন। ফাইল ছবি

সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার (৪ মার্চ) দেশের শেয়ারবাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা যায়। অস্থিরতার মধ্যেই বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়ার মাধ্যমে দিনের লেনদেন শেষ হয়েছে।

প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) যে পরিমাণ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে, তার দ্বিগুণেরও বেশি প্রতিষ্ঠানের দাম বেড়েছে। এরপরও কমেছে মূল্যসূচক ও লেনদেনের পরিমাণ।

অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমার তালিকায় রয়েছে বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। ফলে কমেছে মূল্যসূচক। সেইসঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।

এর আগের ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর রোববার (১ মার্চ) লেনদেনের শুরুতেই ডিএসইর প্রধান সূচক ২২৩ পয়েন্ট কমে যায়। তবে পরবর্তীতে পতনের মাত্রা কিছুটা কমে। এরপরও দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক কমে ১৩৮ পয়েন্ট। এ পতনের পর সোমবার সূচকটি ৭২ পয়েন্ট বাড়ে। তবে মঙ্গলবার ২০৮ পয়েন্ট কমে যায়।

এ পরিস্থিতিতে বুধবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। তবে প্রথম ঘণ্টার লেনদেন শেষে দাম বাড়ার তালিকা বড় হয়। এতে সূচকও ঊর্ধ্বমুখী হয়।

লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। কিন্তু লেনদেনের শেষদিকে বড় মূলধনের কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমে যায়। এতে মূল্যসূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২২৭ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১১২টির। আর ৫৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১০৭টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৫৯টির দাম কমেছে এবং ৪০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৪৪টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ২৫টির দাম কমেছে এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৭৬টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৮টির এবং ৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১০টি দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৪টির দাম কমেছে এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত আছে।

অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পরও ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩২৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক দশমিক ৮৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৪ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৪৫ পয়েন্টে নেমে গেছে।

মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫৮২ কোটি ৩৭ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৮৮৫ কোটি ১২ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৩০২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

এ লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিটি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩২ কোটি ৩৬ লাখ টাকার। ১৪ কোটি ৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, ব্র্যাক ব্যাংক, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরি, রবি, ঢাকা ব্যাংক এবং গ্রামীণফোন।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৬৮ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৮টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৯৬টির এবং ১৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

এমএএস/এমএএইচ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।