ঋণ পুনঃতফসিলে বড় ছাড়, জাহাজ নির্মাণ শিল্প পাবে সর্বোচ্চ ১০ বছর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪৯ এএম, ২১ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংক, ফাইল ছবি

রপ্তানিমুখী ও স্থানীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে ঋণ পুনঃতফসিলে বড় ধরনের ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এই খাতের ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ২ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১০ বছরে ঋণ পরিশোধের সুযোগ পাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ইউরোপে সামরিক অস্থিরতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে জাহাজ নির্মাণ শিল্পের নগদ প্রবাহে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে শিল্পটিকে সহায়তা করতেই বিশেষ এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত পুনঃতফসিলের জন্য আবেদন করা যাবে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যেসব ঋণ শ্রেণিকৃত হয়েছে, সেগুলো পুনঃতফসিল করতে মোট ঋণের ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিতে হবে। এর মধ্যে ১.৫ শতাংশ আবেদনকালে এবং বাকি ১.৫ শতাংশ পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

এছাড়া ২০২৩ সালের সার্কুলারের আওতায় আগে যেসব ঋণ পুনঃতফসিল হয়েছিল, সেগুলো নতুন করে পুনর্গঠন করতে চাইলে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিলেই চলবে। সেক্ষেত্রে বিদ্যমান মেয়াদের সঙ্গে সর্বোচ্চ আরও দুই বছর যোগ করা যাবে।

গ্রেস পিরিয়ড চলাকালে গ্রাহককে মূল ঋণের ওপর ধার্য সুদ মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পরিশোধ করতে হবে। আগের বকেয়া সুদ আলাদা একটি ব্লকড হিসাবে রাখা হবে, যা গ্রেস পিরিয়ড শেষে সুদবিহীন কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ থাকবে।
পুরো ঋণের কিস্তিও মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পরিশোধযোগ্য হবে। নির্ধারিত কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে ঋণ আবার বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী খেলাপি হিসেবে শ্রেণিকরণ করা হবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠিত ঋণ থাকা সত্ত্বেও ব্যবসা ও রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন ঋণ নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে কোনো কম্প্রোমাইজ অ্যামাউন্ট দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে না।
তবে জালিয়াতি, প্রতারণার মাধ্যমে সৃষ্ট ঋণ এবং ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের ক্ষেত্রে এই বিশেষ সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।

আগামী ৩০ জুনের মধ্যে গ্রাহকরা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন পাওয়ার পর ব্যাংকগুলোকে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হবে। একই সঙ্গে বিশেষ পরিদর্শনের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপাদন ও বৈশ্বিক বাজারে রপ্তানির সম্ভাবনার কারণে জাহাজ নির্মাণ শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। শিল্পটিকে সচল রাখা এবং একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর ঋণ আদায় নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ পুনঃতফসিল সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

ইএআর/এসএনআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।