ড. ফাহমিদা খাতুন

নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন না হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অগ্রগতি সম্ভব নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৩৬ পিএম, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন না হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অগ্রগতি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

তিনি বলেন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন যতই করা হোক না কেন, সেটি যদি রাজনৈতিকভাবে গ্রহণ না করা হয় এবং নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না হয়, তাহলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে নারীদের জন্য খুব বেশি কিছু করা সম্ভব হয় না।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে নারীর আর্থিক ক্ষমতায়ন- শ্রমবাজার প্রেক্ষিত’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি কথা বলেন। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি ও ইডেন মহিলা কলেজ যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।

এতে শুভেচ্ছা বক্তব্যে দেন ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শামিম আরা বেগম। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ এবং স্বাগত বক্তব্য দেন সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। সমাপনী বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ড. কাজী ইকবাল। আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ বাধা নারীকে মূলধারার অর্থনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। আমাদের যে প্রচলিত অর্থনৈতিক তত্ত্ব, উন্নয়ন মডেল যেগুলো রয়েছে সেখানে নারীর অবদান কিংবা নারীর অংশগ্রহণ এটাকে অন্যভাবে দেখা হয়।

তিনি জানান, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বা ম্যাক্রোইকোনমিক নীতির মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও অংশের উন্নয়নের জন্য সরকার বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করে থাকে। কোন খাতে বেশি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে, কোথায় ভর্তুকি যাবে কিংবা কারা সরাসরি সহায়তা পাবে—এসব সিদ্ধান্ত বাজেটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়।

ড. ফাহমিদা বলেন, এই ধরনের পলিসিগুলা যখন নেওয়া হয় তখন সবাই যে সমানভাবে পায় তা সেজন্যই আমাদের সরকারের যে নীতিমালা, এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাজেট। সেই বাজেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের যে রাজস্ব অর্থাৎ আর্থিক যে পদক্ষেপ সেগুলা দিয়ে সমাজে যারা একটু পিছিয়ে আছে তাদের তুলে আনার চেষ্টা করা হয়।

উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারীরা পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত হতে পারছেন না বলে উল্লেখ কর ফাহমিদা খাতুন বলেন, আমাদের যে উন্নয়ন প্রক্রিয়াটা চলছে, সেখানে কিন্তু নারীরা পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত হতে পারছে না। অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার কারণে তারা তাদের কাজেরও পুরোপুরি স্বীকৃতি পাচ্ছে না। ফলে তাদের যে পটেনশিয়াল যে সম্ভাবনা সেটাও তারা ব্যবহার করতে পারছে না। কারণ এখানে একটা সুযোগের অভাব রয়েছে, সবার জন্য সুযোগ নাই।

তৈরি পোশাক শিল্পের প্রসঙ্গ টেনে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, এই খাতেই সবচেয়ে বেশি নারী শ্রমিক অংশগ্রহণ করলেও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে নারীরা ঝরে পড়ছেন। এই শিল্পটা যখন আশির দশকের মাঝামাঝি শুরু হয়েছিল তখন এখানকার শ্রমশক্তির ৮০ শতাংশই নারী ছিল। আজ সেটা ৫৬ শতাংশ হিসাবে আমাদের জরিপে আমরা দেখেছি। এই খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রযুক্তির ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু অনেক নারী সেই প্রযুক্তির দক্ষতা না থাকার কারণে ঝরে পড়ছে।

নারীদের পিছিয়ে পড়া ইচ্ছাকৃত নীতিগত উপেক্ষার ফল মন্তব্য ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, নারীরা এত পিছিয়ে আছে এবং এটা ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের সমাজের নীতি নির্ধারকদের নীতিমালার কারণে। তাদের যদি আমি একই পর্যায়ে আনতে চাই প্রথমে তাদেরকে একই পর্যায়ে আনতে হবে পুরুষের সাথে। তারপরে না প্রতিযোগিতাটা হবে।

নারীর উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। এই বিনিয়োগ বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক অঙ্গীকারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য তার। ফাহমিদা খাতুন বলেন, এই বিনিয়োগের জন্য যেটা দরকার রাজনৈতিক কমিটমেন্ট। কারণ রাজনৈতিক নীতি যাদের হাতে রয়েছে অর্থ তাদের হাতে।

ইএইচটি/এনএস/এমআইএইচএস/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।