শেয়ারবাজারে বড় উত্থান, ৭০০ কোটি টাকার কাছাকাছি লেনদেন
সপ্তাহের প্রথম দুই কার্যদিবসে দরপতনের পাল্লা ভারী হলেও তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। এতে মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। সেই সঙ্গে লেনদেন বেড়ে ৭০০ কোটি টাকার কাছাকাছি চলে এসেছে।
ডিএসইর মতো অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার এই বাজারটিতেও মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়ছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। এতে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২৪৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৮৩টির। আর ৫৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৩৪টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৪৬টির দাম কমেছে এবং ২৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৫৭টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ১৭টির দাম কমেছে এবং ১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৫৮টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২০টির এবং ২৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১৭টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৪টির দাম কমেছে এবং ১৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৫৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ১৪০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৩৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৭৬ পয়েন্টে উঠে এসেছে।
সবকটি মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৬৯৩ কোটি ৯৪ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৯২ কোটি ৫৪ টাকা। এ হিসেবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ২০১ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকার। ১৬ কোটি ২৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সিভিও পেট্রিাকেমিক্যাল।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- সিটি ব্যাংক, ফাইন ফুড, এডিএন টেলিকম, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, সোনালী পেপার, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ এবং রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১০১ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৩টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪৭টির এবং ২৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
এমএএস/এমআইএইচএস