যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সবাইকে সংযমী হতে বললেন অর্থমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৩৫ পিএম, ২৪ মার্চ ২০২৬
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী-ফাইল ছবি

চলমান ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সবাইকে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন।

যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আইএমএফ কী পরামর্শ দিল—এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধের প্রেক্ষাপট আছে, ব্যাংক খাতে চ্যালেঞ্জ আছে, পুঁজিবাজারে চ্যালেঞ্জ আছে, কর-জিডিপি অনুপাত আমাদের একেবারে নিম্ন পর্যায়ে। এটাতে উন্নতির জন্য আমরা কী করতে পারি, সে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সরকারের মাত্র এক মাস হয়েছে। এই এক মাসের মধ্যে রমজান মাস ছিল, এর মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। কিন্তু জ্বালানি সংকট সত্ত্বেও পরিবহনে কোনো সমস্যা হয়নি। ঈদের সময় সবাই বাড়িতে যেতে পেরেছে, ভাড়া বাড়েনি, দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ছিল।

অর্থমন্ত্রী বলেন, গার্মেন্টখাতে প্রতি বছর ঈদের আগে যে সমস্যাগুলো হয়, এবার তেমন কোনো অস্থিরতা ছিল না। কারণ এগুলো আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ফল। আমরা আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে রমজানজুড়ে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ছিল।

তিনি বলেন, তেলের বড় সংকট থাকা সত্ত্বেও তেলের অভাবে কোনো পরিবহন বন্ধ ছিল না এবং গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেতন সময়মতো দেওয়া হয়েছে। কোনো অস্থিরতা ছিল না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু সরকার একা পারবে না। আমরা দেশবাসীর কাছে আবেদন করব—সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে, সহানুভূতিশীল হতে হবে, সংযম আমাদের মধ্যে আনতে হবে।

তিনি বলেন, যেহেতু যুদ্ধ কোনো সরকারের হাতে নেই, যুদ্ধ হচ্ছে অন্য জায়গায়, এর প্রভাব আমরা ভোগ করছি। এজন্য আমাদের সংযমী হতে হবে এবং সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। সবাই মিলে আমরা সংকট থেকে উত্তরণ করতে পারব এবং অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে পারব।

বৈঠকের আলোচনার বিষয় জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের সঙ্গে আমাদের একটি কর্মসূচি চলছে এবং এটি কয়েক বছর ধরেই অব্যাহত রয়েছে। এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে এবং পরবর্তী মূল্যায়নেও যাবে।

তিনি বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত অর্থনীতি খুবই খারাপ অবস্থায় ছিল। সেখান থেকে উত্তরণের জন্য যে কর্মসূচিগুলো রয়েছে এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ঘোষণাপত্রে যে বিষয়গুলো বলা হয়েছে, সেগুলো নিয়েই আলোচনা হয়েছে।

বিশেষ করে এ ধরনের অবস্থা থেকে উত্তরণে আমাদের অনেক সংস্কার প্রয়োজন, নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ প্রয়োজন। ব্যাংক খাত খুবই খারাপ অবস্থায় আছে, শেয়ারবাজারও দুর্বল, কর-জিডিপি অনুপাতও কঠিন অবস্থায় রয়েছে—বলেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এগুলো থেকে উত্তরণ করতে হলে ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা এরই মধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি এবং বাকিগুলো শিগগির নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, এরইমধ্যে সামাজিক খাতে অনেক কাজ শুরু হয়েছে—ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আমির খসরু বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অনেকগুলো আর্থিক সমস্যার কারণে থমকে গেছে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও অনেক প্রকল্প স্থবির ছিল। এগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে হবে এবং সে জন্য অর্থনীতিকে একটি স্থিতিশীল অবস্থায় আনতে সংস্কার জরুরি।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা বলে আসছি—নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, সংস্কার, ব্যবসা সহজীকরণ এবং ব্যবসার খরচ কমানো জরুরি। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতির উন্নয়ন সম্ভব এবং এর প্রতিফলন বাজেটে দেখা যাবে।

আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটি চলমান এবং এ বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। আইএমএফের যেসব শর্ত রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে কোনগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব এবং কোনগুলো ধাপে ধাপে করতে হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

অর্থ ছাড়ের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে জুলাইয়ে পরবর্তী মূল্যায়নের সময় আলোচনা হবে।

জুনের মধ্যে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রসঙ্গ উঠলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সেটি জুলাইয়ের মূল্যায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত।

অতিরিক্ত সহায়তা চাওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো আলোচনা হয়নি। ওয়াশিংটনে এপ্রিল মাসে যে বৈঠক হবে, সেখানে বিষয়টি আলোচনা করা হবে।

এমএএস/এসএইচএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।