বাজেট ২০২৬-২৭: বিনিয়োগ, মূল্যস্ফীতি ও সুশাসনের ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জ

সাঈদ শিপন
সাঈদ শিপন সাঈদ শিপন , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৫৫ পিএম, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এবারের বাজেট কেবল বড় হলেই চলবে না, এটি হতে হবে কার্যকর, বাস্তবসম্মত এবং আস্থাবর্ধক/ছবি: এআই

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা এবং অর্থনৈতিক সুশাসনের ঘাটতি- এই তিন বড় চাপের মধ্যে প্রণীত হতে যাচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। বৈশ্বিক অস্থিরতা, জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা এবং অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতা মিলিয়ে অর্থনীতি এখন একটি সংবেদনশীল মোড়ে দাঁড়িয়ে। এই প্রেক্ষাপটে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এবারের বাজেট কেবল বড় হলেই চলবে না, এটি হতে হবে কার্যকর, বাস্তবসম্মত এবং আস্থাবর্ধক।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় আগামী অর্থবছরের বাজেট হবে একটি কঠিন ভারসাম্যের খেলা। একদিকে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অর্থনৈতিক সুশাসন নিশ্চিত করা।

তাদের মতে, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং দক্ষ বাস্তবায়ন- এই চার ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই একটি কার্যকর বাজেট প্রণয়ন সম্ভব। অন্যথায় বড় বাজেটও কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে ব্যর্থ হবে। তাই এবারের বাজেট শুধু একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয়, এটি হবে আস্থা পুনর্গঠন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

বাস্তবায়ন দক্ষতা: উন্নয়নের মূল বাধা

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বাজেট আলোচনায় প্রকল্প বাস্তবায়নের দুর্বলতাকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, দেশে উন্নয়ন প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা এখন প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অনেক প্রকল্প শেষ হয় না, ফলে ব্যয় বাড়ে এবং কাঙ্ক্ষিত সুফল বিলম্বিত হয়।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রকল্প পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং তদারকির প্রতিটি ধাপে দক্ষতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ তথ্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি। তার মতে, বাজেটের সাফল্য নির্ভর করবে বরাদ্দের পরিমাণের চেয়ে বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর।

বিনিয়োগ সংকট ও আস্থার প্রশ্ন

বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে অর্থনীতিবিদরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি বিনিয়োগে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। নীতিগত জটিলতা, অনুমোদন প্রক্রিয়ার ধীরগতি এবং প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করছে।

তিনি বলেন, এই অবস্থা কাটাতে হলে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে নীতিগত জটিলতা কমানো, অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং উদ্যোক্তাদের জন্য বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে হবে। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আস্থা ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নিতে হবে।

আরও পড়ুন
বাজেট পরিকল্পনায় জ্বালানি নিরাপত্তা-বিনিয়োগে অগ্রাধিকার
আসছে ৯ লাখ কোটি টাকার বাজেট, কর্মসংস্থান-মূল্যস্ফীতিতে নজর
সতর্ক ও রক্ষণশীল বাজেটের পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের

কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, দেশের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিনিয়োগ না বাড়লে কর্মসংস্থানও বাড়বে না। তাই শিল্পায়ন ও উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।

প্রকল্প পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং তদারকির প্রতিটি ধাপে দক্ষতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ তথ্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি। বাজেটের সাফল্য নির্ভর করবে বরাদ্দের পরিমাণের চেয়ে বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর।- এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এম এম আকাশ এই সমস্যাকে আরও গভীরভাবে ব্যাখ্যা করে জাগো নিউজকে বলেন, দেশের অর্থনীতিতে ‘ক্রোনি ক্যাপিটালিজম’ একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, আমলা ও রাজনৈতিক শক্তির এক অস্বচ্ছ জোট রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার এবং বৈষম্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। এর ফলে সৎ বিনিয়োগকারীরা পিছিয়ে পড়ছে এবং পুঁজি পাচার বাড়ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপির তুলনায় বেসরকারি বিনিয়োগের হার নেমে এসেছে মাত্র ২২.০৩ শতাংশে, যা দীর্ঘ সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই তার মতে, প্রথম কাজ হলো অর্থনীতিতে আস্থা ফিরিয়ে আনা। ‘অনিশ্চয়তায় কেউ বিনিয়োগ করে না’- এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি নীতিগত স্থিতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সুদের হার, করব্যবস্থা ও পুঁজিবাজার

এম এম আকাশ উচ্চ সুদের হারকে বিনিয়োগের অন্যতম বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য এটি বড় প্রতিবন্ধকতা। তিনি দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার উদাহরণ দিয়ে লক্ষ্যভিত্তিক স্বল্পসুদে ঋণনীতির পরামর্শ দেন।

একই সঙ্গে তিনি প্রগ্রেসিভ করব্যবস্থা চালু এবং কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তার মতে, রাজস্ব আয় না বাড়িয়ে বড় বাজেট গ্রহণ করলে তা টেকসই হবে না এবং বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়বে।

আরেক অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বড় বিনিয়োগের অর্থায়নে পুঁজিবাজারের ভূমিকা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, বড় কোম্পানিগুলোর ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে শেয়ার ও বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা উচিত। এতে ব্যাংকিং খাতের চাপ কমবে এবং পুঁজিবাজার শক্তিশালী হবে।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন

সাবেক মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বাজেটের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে জ্বালানি নিরাপত্তাকে চিহ্নিত করেছেন। তার মতে, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ ছাড়া শিল্প ও উৎপাদন খাত সচল রাখা সম্ভব নয়। তাই এই খাতে পরিকল্পিত বিনিয়োগ অত্যন্ত জরুরি।

দেশের অর্থনীতিতে ‘ক্রোনি ক্যাপিটালিজম’ একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, আমলা ও রাজনৈতিক শক্তির এক অস্বচ্ছ জোট রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার এবং বৈষম্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। এর ফলে সৎ বিনিয়োগকারীরা পিছিয়ে পড়ছে এবং পুঁজি পাচার বাড়ছে।- এম এম আকাশ, সাবেক অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এরই মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এখন সময় এসেছে মানবসম্পদ উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়ার। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা-বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংশ্লিষ্ট স্কিল উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা করা সহজ হবে।

সামাজিক সুরক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী। তিনি বলেন, বর্তমানে শতাধিক কর্মসূচি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় প্রশাসনিক ব্যয় বাড়ছে এবং কার্যকারিতা কমছে। তাই এগুলোকে ‘লাইফ সাইকেল’ ভিত্তিতে পুনর্গঠন করে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা উচিত, যেন স্বচ্ছতা বাড়ে এবং অপচয় কমে।

মূল্যস্ফীতি: সবচেয়ে তাৎক্ষণিক চাপ

বর্তমান অর্থনীতির সবচেয়ে বড় তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে মূল্যস্ফীতিকে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, এটি শুধু অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, বৈশ্বিক কারণও এর পেছনে কাজ করছে। সরবরাহ ব্যবস্থা দুর্বলতা, বাজার ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল।

এই অবস্থায় নীতিগত সুদের হার দ্রুত কমানোর বিপক্ষে মত দিয়েছেন মুসলিম চৌধুরী। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এটি শুধু অভ্যন্তরীণ নয়, বাহ্যিক কারণেও বাড়ছে। এ অবস্থায় নীতিগত সুদের হার হঠাৎ কমিয়ে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর চেষ্টা করলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। তাই কিছুদিন বর্তমান নীতিই অব্যাহত রাখা উচিত, যদিও এতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কিছুটা কমতে পারে।

আরও পড়ুন
বাজেট নিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে প্রস্তাব–সুপারিশ চাইলো এনবিআর
দামের চেয়ে দুষ্প্রাপ্যতা বড় সমস্যা হয়ে উঠতে পারে
মার্চে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৭১ শতাংশ

আর এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনে বড় চাপ সৃষ্টি করছে। এই চাপ কমাতে বাজার ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নীতিগত হস্তক্ষেপ নিতে হবে।

কেমন হতে পারে বাজেটের আকার

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকা হতে পারে। সম্ভাব্য মোট ব্যয় ধরা হতে পারে ৮ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা এবং রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হতে পারে প্রায় ৬ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৯.৪ শতাংশ। এতে বাজেটে ঘাটতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা বা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। এই ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ২ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হতে পারে।

রাজস্ব না বাড়িয়ে বড় বাজেট করলে সেটি হয় ব্যাংক ঋণনির্ভর হবে, নয়তো টাকা ছাপিয়ে অর্থায়ন করতে হবে। দুটিই ঝুঁকিপূর্ণ। এতে বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়বে। তাই সম্প্রসারণমূলক বা সংকোচনমূলক নয়, বাস্তবতা বিবেচনায় একটি ভারসাম্যপূর্ণ, দক্ষ ও টেকসই বাজেট প্রণয়নই এখন সবচেয়ে প্রয়োজন।- মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, সাবেক সিএজি

তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, রাজস্ব আয় না বাড়িয়ে ঋণনির্ভর বাজেট করলে তা বেসরকারি খাতকে চাপে ফেলবে। আর যদি টাকা ছাপিয়ে ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা করা হয়, তাহলে মূল্যস্ফীতি বড় অঙ্কে বেড়ে যেতে পারে, যা অর্থনীতির জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করবে।

এ বিষয়ে সাবেক সিএজি মুসলিম চৌধুরী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৭-৮ শতাংশ, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় খুবই কম। এই হার অন্তত ১ থেকে ১.৫ শতাংশ বাড়ানো জরুরি। এজন্য প্রগ্রেসিভ করব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে উচ্চ আয়ের মানুষের কাছ থেকে বেশি কর আদায় নিশ্চিত করতে হবে, যেন নিম্নআয়ের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হন।

তিনি বলেন, রাজস্ব না বাড়িয়ে বড় বাজেট করলে সেটি হয় ব্যাংক ঋণনির্ভর হবে, নয়তো টাকা ছাপিয়ে অর্থায়ন করতে হবে। দুটিই ঝুঁকিপূর্ণ। এতে বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়বে। তাই সম্প্রসারণমূলক বা সংকোচনমূলক নয়, বাস্তবতা বিবেচনায় একটি ভারসাম্যপূর্ণ, দক্ষ ও টেকসই বাজেট প্রণয়নই এখন সবচেয়ে প্রয়োজন।

মুসলিম চৌধুরী আরও বলেন, রাজস্ব আয় না বাড়িয়ে ঋণ করে বাজেটের আকার বড় করলে বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বেসরকারি খাত গ্রো করবে না। আর যদি বলেন ঋণ করবো না, তাহলে টাকা ছাপাতে হবে। টাকা ছাপালে তা মূল্যস্ফীতিকে উস্কে দেবে। তখন মূল্যস্ফীতি ১২-১৪ শতাংশ হয়ে যেতে পারে, এমনকি ২০ শতাংশও হয়ে যেতে পারে।

এমএএস/ইএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।