মার্চে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৭১ শতাংশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৪০ পিএম, ০৫ এপ্রিল ২০২৬
মার্চ মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে/ ফাইল ছবি

চলতি বছরের মার্চ মাসে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে। ফেব্রুয়ারিতে এই হার ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। আগের বছরের (২০২৫ সালের) মার্চে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ। ফলে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় গত মার্চে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, সবজিসহ সব খাদ্যপণ্যের দাম কমতি। বিশেষ করে আলু, চাল, ডাল, তেল, লবণ, মাছ, মাংস, সবজি ও মসলার দাম কম। এতে কমেছে মূল্যস্ফীতি। তবে খাদ্য-বহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) বিবিএস প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে খাদ্যখাতে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৮ দশমিক ২৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ। গত বছরের মার্চে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

খাদ্য-বহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে মার্চে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশে, যা ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ৯ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। তবে এই খাতে ২০২৫ সালের মার্চে মূল্যস্ফীতি ছিল তুলনামূলক বেশি, ৯ দশমিক ৭০ শতাংশ। মূলত খাদ্য, বাড়ি ভাড়া, পোশাক ও তামাকের কারণেই মূল্যস্ফীতিতে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ, এসব খাতে হাতখরচ বাড়ছে দেশবাসীর।

গ্রাম ও শহর- উভয় অঞ্চলে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে সামান্য স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে।
গ্রামীণ এলাকায় পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে সাধারণ মূল্যস্ফীতি মার্চে দাঁড়িয়েছে ৮ দমমিক ৭২ শতাংশ, যা ফেব্রুয়ারির ৯ দশমিক ২১ শতাংশ থেকে কম। তবে গত বছরের একই সময়ে, অর্থাৎ মার্চ ২০২৫-এ এটি ছিল বেশি, ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ।

আরও পড়ুন
বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় বেড়েছে 
এলএনজিতে এপ্রিলে ভর্তুকি লাগবে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা 

গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক শূন্য ২ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে খাদ্য-বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি সামান্য বেড়ে ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগের বছরের মার্চ মাসে গ্রামাঞ্চলে খাদ্য ও খাদ্য-বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। শহরাঞ্চলেও মূল্যস্ফীতিতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। মার্চে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৭৮ শতাংশে নেমেছে, তবে খাদ্য-বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৬২ শতাংশ হয়েছে। আগের বছরের জানুয়ারিতে শহরাঞ্চলে খাদ্য ও খাদ্য-বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল যথাক্রমে ৯ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে স্বল্প আয়ের দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকদের গড় মজুরি সামান্য বেড়ে ৮ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ হয়েছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৮ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। যদিও মার্চে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে নেমেছে, তবুও শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত আয় এখনও পিছিয়ে রয়েছে। ফলে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে টানা ৫০ মাস ধরে প্রকৃত আয় হ্রাসের ধারা অব্যাহত রয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে পৌঁছায়, যেখানে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ফলে ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ পয়েন্টের একটি বড় ব্যবধান তৈরি হয়। বর্তমানে সেই ব্যবধান কমে শূন্য দশমিক ৬২ শতাংশ পয়েন্টে নেমে এসেছে।

এমওএস/কেএসআর



পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।