লুটেরাদের ফেরার পথ বন্ধের দাবি ইসলামী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তাদের
ব্যাংকিং খাতে সাম্প্রতিক সময় বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও ঘটনাবলীতে উদ্বেগ প্রকাশ করে লুটেরাদের পুনরাগমনের সব ধরনের সুযোগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে ‘অ্যাসোসিয়েশন অব রিটায়ার্ড ইসলামী ব্যাংকার্স’। একই সঙ্গে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রকৃত মালিকদের হাতে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়াসহ পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সংগঠনের এক বৈঠকে এ দাবি জানানো হয়। সংগঠনের সভাপতি নূরুল ইসলাম খলিফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সাবেক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সালেহ, ইঞ্জিনিয়ার আবুল বাসার, আবদুস সাদেক ভুঁইয়া, এ এ এম হাবীবুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনের নেতারা বলেন, ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইনে পুরোনো মালিকদের ফেরার সুযোগ রাখা, ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ওমর ফারুক খানকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো এবং বিতর্কিতভাবে নিয়োগপ্রাপ্তদের পুনর্বহালের প্রচেষ্টা এসব বিষয় ব্যাংক খাতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
সংগঠনটির উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইনের ১৮(ক) ধারা বাতিল, ব্যাংকের সব স্তর থেকে লুটেরা ও তাদের সহযোগীদের অপসারণ, পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনা, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া। এছাড়া বর্তমান প্রধান নির্বাহীকে দায়িত্বে পুনর্বহালের মাধ্যমে গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারের আহ্বানও জানানো হয়।
সাবেক ব্যাংকাররা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর কয়েকটি ব্যাংকের আর্থিক বিবরণী পুনর্নিরীক্ষা করতে হয়েছে, যা খাতটির অনিয়ম ও দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। তারা বলেন, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নির্দিষ্ট অঞ্চলভিত্তিক ব্যাপক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা মেধা ও সমান সুযোগের নীতির পরিপন্থি।
তাদের মতে, ব্যাংক খাতে সংঘটিত অনিয়ম, লুটপাট ও দুর্নীতি জনমনে আস্থাহীনতা সৃষ্টি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে কয়েকটি ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, যা খাতটির গভীর সংকটেরই প্রতিফলন। অনেক আমানতকারী এখনো তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত না পেয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
সভায় আরও বলা হয়, ইসলামী ব্যাংক থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ ভুয়া ঋণের মাধ্যমে পাচার করা হলেও পরবর্তীতে কিছু পদক্ষেপের কারণে ব্যাংকটি আংশিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত আবারও সেই অগ্রগতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
সাবেক কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর প্রভাব পুনরায় ব্যাংক খাতে বিস্তার লাভ করতে পারে, বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে এ শঙ্কা বেশি। ব্যাংক রেজ্যুলেশন অধ্যাদেশের ১৮(ক) ধারাকে তারা লুটেরাদের পুনর্বাসনের সম্ভাব্য পথ হিসেবে দেখছেন।
তারা আরও বলেন, প্রধান নির্বাহীকে কারণ উল্লেখ না করে ছুটিতে পাঠানোয় গ্রাহক ও অংশীজনদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী ক্ষমতা স্বীকার করেও অতীতের অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় এড়ানো যায় না বলে মন্তব্য করেন তারা। একই সঙ্গে এমন কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানান, যা আমানতকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে।
সভা থেকে নবনির্বাচিত সরকার, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের প্রতি ব্যাংক খাতে সুশাসন, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।
ইএআর/এমএএইচ/