অবৈধ সম্পদ: বেনজীরের বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষ্য দিলেন দুদকের হাফিজুল ইসলাম
অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম।
বুধবার (১৩ মে) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২০ মে দিন ধার্য করা হয়েছে।
এদিন মামলার বাদী ও দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম আদালতে সাক্ষ্য দেন। আদালত সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ সহকারী সোহানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ৩ মে একই আদালত বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। পরে ৮ মার্চ আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেন।
দুদকের তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এতে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থপাচারের অভিযোগ আনা হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ তার সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দিয়েছিলেন। তবে অনুসন্ধানে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর ও ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়।
তদন্তে তার মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য মিললেও বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদ দিলে তার নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে প্রায় ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, এসব অর্থের প্রকৃত উৎস ও মালিকানা গোপন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে।
দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।
এমডিএএ/বিএ