টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জের যাত্রা শুরু

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১০:৫২ এএম, ১৭ মে ২০২৬
টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জের যাত্রা শুরু হয়েছে, ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পে উদ্ভাবন ত্বরান্বিত করতে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করলো টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জ (টাই)।

টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পে উদ্ভাবনকে মূল দক্ষতায় রূপান্তরের লক্ষ্যে টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জের জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর লে মেরিডিয়ান ঢাকার বলরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে নীতিনির্ধারক, শিল্প উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ, উদ্ভাবক এবং উন্নয়ন সহযোগীরা অংশগ্রহণ করেন।

টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জের মূল লক্ষ্য হলো শিল্পখাতে উদ্ভাবনকে একটি পরিমাপযোগ্য, তথ্যভিত্তিক ও পুনরাবৃত্তিযোগ্য চর্চায় পরিণত করা। এ লক্ষ্যে কারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, গবেষক এবং বৈশ্বিক অংশীদারদের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি
এবং মাইক্রোফাইবার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. শামসুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলের (বুটেক্স) উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. জুলহাস উদ্দিন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘টিকে থাকতে হলে আমাদের আরও বেশি গবেষণা, উদ্ভাবন এবং টেকসই অভিযোজন সক্ষমতা প্রয়োজন।’ তিনি ইউটিলিটি অপটিমাইজেশনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, উৎপাদনকারীদের আরও গবেষণামুখী ও উদ্ভাবননির্ভর হতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে ব্যর্থ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে পড়ে।

প্রফেসর জুলহাস উদ্দিন বলেন, টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জ শিল্প গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে নতুন উপকরণ উদ্ভাবন, ইউটিলিটি খরচ ও রাসায়নিক ব্যবহারের পরিমাণ কমানো, এবং শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) মুখপাত্র আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ গার্মেন্ট বাইং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আব্দুল হামিদ ও দ্য ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টসের (আইটিইটি) অন্তর্বর্তী কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. এনায়েত হোসেন।

অনুষ্ঠানে টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জের করপোরেট ভিডিও উন্মোচন করা হয় এবং টেক্সটাইল টুডে ইনোভেশন হাব ও টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জের কার্যক্রমের সমন্বয় তুলে ধরেন টেক্সটাইল ইনোভেশন হাবের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও তারেক আমিন। একই সঙ্গে পিআইআইসি সিজন ১ এবং টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬-এর ঘোষণাও দেওয়া হয়, যা শিল্পখাতে উদ্ভাবনভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদার করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এবং টেক্সটাইল টুডে ইনোভেশন হাবের নির্বাহী চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার এহসানুল করিম কায়সার বলেন, বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে একটি শক্তিশালী উদ্ভাবনী পরিবেশ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সপো এবং ইনোভেশন উইংয়ের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ড. মো. হাসিব উদ্দিন গবেষণাভিত্তিক শিল্প সহযোগিতা এবং বাস্তবমুখী উদ্ভাবনী উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শেষে টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জের লোগো উন্মোচন করা হয়।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জ বোর্ডের পরিচিতি পর্ব। বোর্ডের সদস্যরা হলেন— ইঞ্জিনিয়ার এহসানুল করিম কায়সার, আহ্বায়ক, আইটিইটি ও নির্বাহী চেয়ারম্যান, টেক্সটাইল টুডে ইনোভেশন হাব; ইঞ্জি. সাইফুল ইসলাম খান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এসেনশিয়াল ক্লোদিং লিমিটেড; ইঞ্জি. মো. শামসুজ্জামান, সহ-সভাপতি, বিকেএমইএ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মাইক্রো ফাইবার গ্রুপ; প্রফেসর ড. ইঞ্জি. আইয়ুব নবী খান, উপাচার্য, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি; ড. মো. হাসিব উদ্দিন, পরিচালক, বিজিএমইএ ও চেয়ারম্যান, এপিএস নিট কম্পোজিট লিমিটেড; ইঞ্জি. হাফিজুর রহমান নিক্সন, নির্বাহী পরিচালক, আরএইচ করপোরেশন (আজিজ গ্রুপ); ইঞ্জি. এটিএম মাহবুবুল আলম, নির্বাহী পরিচালক, মাসকো গ্রুপ; ইঞ্জি. শফিউর রহমান, কান্ট্রি ম্যানেজার, জি-স্টার র’; ইঞ্জি. মো. আজহার আলী, প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা, সালমা গ্রুপ এবং ইঞ্জি. এএসএম তারেক আমিন, প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, টেক্সটাইল টুডে ইনোভেশন হাব।

অনুষ্ঠানটি নেটওয়ার্কিং ও মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে শেষ হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যৎ সহযোগিতা, টেকসই উদ্ভাবন, আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা এবং বাংলাদেশকে বৈশ্বিক টেক্সটাইল উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জ ভবিষ্যতে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং শিল্পচর্চার মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

আইএইচও/এমএমএআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।