গুগল সার্চে কিউআর কোড স্ক্যান না করলে খুলবে না ওয়েবসাইট

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫৫ এএম, ১৭ মে ২০২৬
নতুন এই ব্যবস্থায় কোনো ওয়েবসাইটে ঢুকলেই স্ক্রিনে একটি কিউআর কোড দেখা যেতে পারে

ইন্টারনেট ব্যবহার করতে গিয়ে ‘আই’এম নট অ্যা রোবট’ লেখা ক্যাপচা প্রায় সবাই দেখেছেন। কখনো ট্রাফিক লাইট বেছে নিতে হয়, কখনো আবার নির্দিষ্ট ছবি শনাক্ত করতে হয়। এতদিন ওয়েবসাইটকে বট ও ভুয়া ট্র্যাফিক থেকে সুরক্ষিত রাখতে এই ব্যবস্থাই ছিল অন্যতম ভরসা। তবে এবার সেই পুরোনো পদ্ধতিতেই বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে গুগল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুগল এখন এমন একটি নতুন হিউম্যান ভেরিফিকেশন সিস্টেম নিয়ে কাজ করছে, যেখানে কিউআর কোড স্ক্যান করেই প্রমাণ করতে হতে পারে আপনি একজন প্রকৃত ব্যবহারকারী। অর্থাৎ ভবিষ্যতে শুধু ক্যাপচা টেস্ট নয়, স্মার্টফোনও হয়ে উঠতে পারে আপনার পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যম।

কী এই নতুন কিউআর ভেরিফিকেশন সিস্টেম

নতুন এই ব্যবস্থায় কোনো ওয়েবসাইটে ঢুকলেই স্ক্রিনে একটি কিউআর কোড দেখা যেতে পারে। ব্যবহারকারীকে নিজের স্মার্টফোন দিয়ে সেই কোড স্ক্যান করতে হবে। এরপর ফোন থেকে ওয়েবসাইটে একটি ডিজিটাল সিগন্যাল পাঠানো হবে, যার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে যে ওয়েবসাইট ব্যবহার করছেন একজন মানুষ, কোনো অটোমেটেড বট নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিস্টেম ভবিষ্যতে বর্তমান রিক্যাপচা যুক্তির বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।

কেন বদল আনার পরিকল্পনা গুগলের?

দীর্ঘদিন ধরেই গুগল তাদের রিক্যাপচা সিস্টেম ব্যবহার করছে। কিন্তু বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেটেড বট এতটাই উন্নত হয়েছে যে অনেক ক্ষেত্রেই তারা সহজে ক্যাপচা টেস্ট পাস করে ফেলতে পারছে।

এই কারণেই গুগল আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ ভেরিফিকেশন পদ্ধতি খুঁজছে। ফোন-ভিত্তিক যাচাই প্রক্রিয়ায় আসল ডিভাইস ও ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করা তুলনামূলক সহজ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্প্যাম, ভুয়ো অ্যাকাউন্ট এবং বট অ্যাক্টিভিটি কমানোর লক্ষ্য রয়েছে সংস্থার।

কীভাবে কাজ করবে নতুন ফিচার?

রিপোর্ট অনুযায়ী, ওয়েবসাইটে প্রবেশের সময় ব্যবহারকারীর সামনে কিউআর কোড দেখানো হবে। এরপর-

  • স্মার্টফোন দিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করতে হবে
  • ফোন ওয়েবসাইটের সঙ্গে নিরাপদভাবে সংযুক্ত হবে
  • একটি ডিজিটাল অথেনটিকেশন সিগন্যাল পাঠানো হবে
  • তারপরই ওয়েবসাইট নিশ্চিত করবে ব্যবহারকারী মানুষ নাকি বট

এই পুরো প্রক্রিয়াটি দ্রুত এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হতে পারে।

প্রাইভেসি নিয়ে কেন উঠছে প্রশ্ন?

গুগলের এই সম্ভাব্য নতুন ব্যবস্থাকে ঘিরে এরই মধ্যে গোপনীয়তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের আশঙ্কা, যদি প্রতিটি ওয়েবসাইটের সঙ্গে ফোন যুক্ত করতে হয়, তাহলে ব্যবহারকারীর অনলাইন কার্যকলাপ আরও সহজে ট্র্যাক করা সম্ভব হতে পারে।

যদিও গুগল এখনো এই প্রযুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি, তবুও প্রযুক্তি দুনিয়ায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। আপাতত এটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট কিছু ওয়েবসাইটে পরীক্ষামূলকভাবে ফিচারটি চালু হতে পারে। নতুন এই ব্যবস্থা সফল হলে ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলেই মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।

কেএসকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।