সঞ্চয়পত্র কেনায় হিড়িক


প্রকাশিত: ০৮:৪৫ এএম, ২০ মে ২০১৫

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানোর ঘোষণা দেওয়ায় সঞ্চয়পত্র কেনায় হিড়িক পড়েছে। ব্যাংকের তুলনায় মুনাফা বেশি হওয়ায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সঞ্চয়পত্র কিনছেন বিনিয়োগকারীরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন সুদহার কার্যকর হওয়ার আগে কিনলে বর্তমানের সুদহার অনুযায়ী মুনাফা পাবেন গ্রাহকরা। আর এ কারণেই বিক্রি বেড়েছে অনেক বেশি।

এদিকে গত এক বছর ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে সঞ্চয়পত্র বিক্রি। একের পর এক ভাঙছে আগের রেকর্ড। সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানোর খবরে এখন বর্তমান নির্ধারিত সুদহারে আসায় এ বিক্রি বেড়েছে। বিক্রি বাড়ায় ক্রেতাদের সামলাতে লোকবল বাড়িয়েও হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস। অন্যান্য বিক্রয় কেন্দ্রেও একই অবস্থা।

সম্প্রতি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট অলোচনায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমানোর কথা জানান।

অর্থমন্ত্রী জানান, সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো হয়েছে। প্রতিটি সঞ্চয়পত্রে সুদের হার গড়ে দেড় থেকে দুই শতাংশ কমিয়ে আনা হয়েছে। এখন প্রজ্ঞাপন জারি হলে তা কর্যকর হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসে গিয়ে দেখা যায়, গ্রাহকদের সঞ্চয়পত্র কেনা ও সুদ উত্তোলনের দীর্ঘ লাইন। পাঁচ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কিনেছেন বেসরকারি চাকুরিজীবী আমজাদ হোসেন। তিন মাস অন্তর সুদ উত্তোলনের জন্য এসেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতিঝিল শাখায়। এ সময় তিনি জানান, আগে পাঁচ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ছিল তার মুনাফা তিন মাস পর পর নিচ্ছি। এখন আরো তিন লাখ টাকার বিনিয়োগ করবো। কারণ এখন বিনিয়োগ করলে বর্তমান রেটে মুনাফা পাবো।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতিঝিল অফিসের সঞ্চয়পত্র শাখার উপ-পরিচালক আ ক ম সেলিম জানান, শুধু বিক্রি নয়, একই সঙ্গে বেড়েছে জমে থাকা সুদ উত্তোলন। সঞ্চয়পত্র বিক্রি ও সুদ উত্তোলন এতোটাই বেড়েছে যে, তা সামলাতে লোকবল বাড়িয়েও হিমশিম খেতে হচ্ছে।

গত কয়েকদিন সঞ্চয়পত্র বিক্রি অনেক বেড়ে গেছে। প্রস্তুতি না থাকায় সেবা দিতে প্রথম দু’এক দিন তাদের হিমশিম খেতে হয়েছে। পরবর্তীতে লোকবল বাড়িয়ে এ ধরনের সেবা দেওয়া হয়েছে। তবে চাপ অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় একটু বেশি থাকায় গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।

এদিকে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়াতে ২০১৩ সালের মার্চ মাস থেকে সুদের হার বাড়ায় সরকার। যা এখনো কমানো হয়নি। পরিবার, পেনশনার, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র, ডাকঘর ও পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের সুদের হার এক শতাংশ থেকে ক্ষেত্রবিশেষে তিন শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

বর্তমানে ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ, পরিবার সঞ্চয়পত্রে ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ, পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে সুদহার ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ বিদ্যমান রয়েছে।

চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি ১৫) সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ২৮৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা। যা সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯ হাজার ২২৭ কোটি টাকা বেশি। চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা।

এসআই/বিএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।