সর্বনিম্ন আয়কর ৪ হাজার টাকা!
আগামী অর্থবছর থেকে সর্বনিম্ন আয়কর ৪ হাজার টাকা হচ্ছে। ব্যক্তি শ্রেণির কর হার সর্বনিম্ন ৩ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে অঞ্চলভিত্তিক কর হার পরিহার করে সারাদেশের করদাতাদের করের হার একই রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আসন্ন ২০১৫-১৬ অর্থবছরের অর্থমন্ত্রীর বাজেট প্রস্তাবনায় এ সংক্রান্ত ঘোষণা থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এনবিআর সূত্র জানায়, বর্তমানে সাধারণ করদাতাদের ২ লাখ ২০ হাজার টাকার ওপরে ও ৫ লাখ ২০ হাজার টাকার কম বাৎসরিক আয়ে করের সর্বনিম্ন হার প্রদান করতে হয়। সেক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বসবাসকারী করদাতাদের ৩ হাজার টাকা, জেলা সদর ও পৌরসভায় বসবাসকারী করদাতাদের ২ হাজার টাকা এবং অন্যান্য এলাকায় বসবাসকারী করদাতাদের ১ হাজার টাকা আয়কর দিতে হয়। অঞ্চলভিত্তিক করের এ হারটি এ বছরের বাজেটের পর আর থাকছে না। দেশের যেকোনো স্থানের বসবাসকারী করদাতাদের একই হারে আয়কর প্রদান করতে হবে। আর এর সর্বনিম্ন হার হবে ৪ হাজার টাকা।
এ প্রসঙ্গে এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, দেশের সব জায়গার আয়ই এখন সমান। শ্রমের মূল্য সব ক্ষেত্রেই সমান হয়ে গেছে। গ্রাম পর্যায়ে আয় কিছুটা কম হলেও সেখানে জীবিকা নির্বাহের ব্যয়ের হারও কম। সব জায়গার মানুষই এখন সমান নাগরিক সুবিধা ভোগ করার সুযোগ পান। তাই আয়কর প্রদানের সর্বনিম্ন হার সব জায়গায় সমান করা হয়েছে।
এছাড়া করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় আয়কর প্রদানের সর্বনিম্ন হারও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
এনবিআরের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, আগামী অর্থবছর থেকে সাধারণ করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর বেশি ও ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম আয়কারীকে দিতে হবে করের সর্বনিম্ন হার ৪ হাজার টাকা। আর করদাতার আয় যদি ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা হয় তবে তাকে ১০ শতাংশ আয়কর দিতে হবে।
এরপর পরবর্তী ৪ লাখ টাকায় ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকায় ২০ শতাংশ, পরবর্তী ৩০ লাখ টাকায় ২৫ শতাংশ ও অবশিষ্ট আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ আয়কর দিতে হবে করদাতাকে।
এনবিআর সূত্র মতে বর্তমানে ১৮ লাখ কর সনাক্তকারী নম্বর (ইটিআইএন) ধারী রয়েছেন। এর মধ্যে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবনা অনুযায়ী ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম আয়কারীর জন্য করের হার থাকবে শূন্য।
এআরএস/পিআর