৪ কোটি পরিবারকে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে আনার নির্দেশ অর্থমন্ত্রীর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:০০ পিএম, ১২ মে ২০২৬
পেনশনের চার স্কিমে মোট তিন লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৫ জন নাগরিক নিবন্ধিত হয়েছেন/ফাইল ছবি

দেশের সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এজন্য তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় চার কোটি পরিবারের প্রতিটি থেকে অন্তত একজন সদস্যকে স্কিমের আওতায় আনতে বলেছেন।

একই সঙ্গে মন্ত্রী শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালু, নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা বিবেচনা ও আউটসোর্সিং কর্মীদের পেনশনের আওতায় আনার বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন।

মঙ্গলবার (১২ মে) অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিমের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা’ বিষয়ে এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান, অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সভায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান সর্বজনীন পেনশন স্কিমের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা দেন। এতে জানানো হয়, গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা- এই চারটি স্কিমে মোট তিন লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৫ জন নাগরিক নিবন্ধিত হয়েছেন। এসব স্কিমে জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আর মুনাফাসহ মোট বিনিয়োগের পরিমাণ হয়েছে ২৭৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

সভায় তথ্য দেওয়া হয়, দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ এখনো অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। পাশাপাশি বয়স্ক জনগোষ্ঠীর নির্ভরশীলতার হার ২০২৩ সালের ৯ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০৫০ সালে ২৪ শতাংশ এবং ২০৭৫ সালে ৪৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এই পরিবর্তিত জনমিতিক বাস্তবতায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে আরও শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এসময় অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী বেসরকারি খাতের কর্মীদের বার্ধক্যকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘পেনশন ফান্ড’ গঠন অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। এজন্য তিনি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি, প্রচার কার্যক্রম জোরদার, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দক্ষ ও পেশাদার জনবল নিয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

সভায় জানানো হয়, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে সহজ শর্তে ১০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া বর্তমানে ৪৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিকাশ, নগদ ও টেলিটকের মাধ্যমে পেনশন চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমেও নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সভায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এসময় অর্থমন্ত্রী দেশের সব নাগরিকের কাছে পেনশন সুবিধা পৌঁছে দিতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

এমএএস/একিউএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।