সপ্তাহে অধিকাংশ শেয়ারের দর নিম্নমুখী
গত সপ্তাহের দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দরপতন হয়েছে। মূল্যসূচক বাড়লেও কমেছে টাকার অংকে লেনদেনের পরিমাণও। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের প্রধান শেয়ারবাজারে কারিগরি ত্রুটির কারণে লেনদেন কমেছে। গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার কারিগরি ত্রুটির কারণে লেনদেন হয়েছিল মাত্র এক ঘণ্টা ১০ মিনিট।
সোমবারও লেনদেনে বিলম্ব হয় এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিট মিনিট। যার কারণে দুই দিন লেনদেন অনেক কম হয়। যার প্রভাব পড়েছে সপ্তাহ শেষে লেনদেনে। এছাড়ও আগের সপ্তাহে বাজার টানা ঊর্ধ্বমুখী পর গত সপ্তাহের কিছুটা মূল্য সংশোধন হয়েছে পুঁজিবাজারে।
সপ্তাহ শেষে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন কমেছে দুই দশমিক ৬১ শতাংশ এবং সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে এক দশমিক ৩৭ শতাংশ।
ডিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দরপতন হয়েছে। গত সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে মোট ৩২৪টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১০৮ টির, কমেছে ২০৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১১টি কোম্পানির শেয়ারের দর। আর লেনদেন হয়নি ২টি কোম্পানির শেয়ার। ডিএসইতে বাজার মূলধন বেড়েছে দশমিক ৮৩ শতাংশ।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে তিন হাজার ৭৩৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকার। যা আগের সপ্তাহের তুলনায় গত সপ্তাহে ঢাকার শেয়ারবাজারে লেনদেন কমেছে ১০০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল তিন হাজার ৮৩৬ কোটি তিন লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট।
আলোচিত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে তিন কার্যদিবস মূল্য সূচক বেড়েছে। বাকি দুই কার্যদিবস সূচক কমেছে। সপ্তাহে শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৬১ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৩৭ শতাংশ। এসময় ডিএস৩০ সূচক বেড়েছে ৪৮ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৮৫ শতাংশ। শরীয়াহ সূচক ডিএসইএস সূচক বেড়েছে এক দশমিক ৫২ শতাংশ বা ১৬ পয়েন্টে।
সপ্তাহ শেষে ডিএসইর পিই রেশিও অবস্থান করছে ১৭ দশমিক ৩৯ পয়েন্টে। যা আগের সপ্তাহ শেষে অবস্থান ছিল ১৭ দশমিক ৩২ পয়েন্টে। অর্থাৎ এক সপ্তাহে পিই রেশিও বড়েছে দশমিক ৪৩ শতাংশ।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দুইদিন রোববার ও সোমবার কারিগরি ত্রুটির কারণে লেনদেনে বিঘ্ন ঘটে। এর মধ্যে রোববার কারিগরি ত্রুটির কারণে ডিএসইতে লেনদেন থাকে তিন ঘণ্টা ৫০ মিনিট। এরপরে ২টা ২০ মিনিটে লেনদেন চালু হয়ে শেষ হয় ৪টায়। লেনদেন হয় মাত্র এক ঘণ্টা ১০ মিনিট।
আর সোমবার ডিএসইতে লেনদেনে বিলম্ব হয় এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিট মিনিট। পরে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে লেনদেন শুরু হয়ে চলে বিকাল ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত।
এসআই/বিএ/এমএস