সরকার ঋণ নিলে প্রভাব পড়বে না ব্যাংক খাতে : গভর্নর
বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে তারল্যের কোনো সমস্যা নেই। প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি পূরণে সরকার ব্যাংকিং খাত থেকে যে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে তাতে বাংকিং খাতে কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে, জাতীয় বাজেট ঘোষণার একদিন পর বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনের সভাপতিত্ত করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। এছাড়াও সরকারের মন্ত্রী-সচিব, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত রয়েছেন।
গভর্নর বলেন, গত বছরে সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়নি। সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে চাহিদা পূরণ করেছে। ব্যাংকিং খাতে যথেষ্ট তারল্য রয়েছে। সরকার ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে বাজার থেকে টাকা তুলে নিলে কোনো প্রভাব পরবে না। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটের অর্থবিলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ প্রস্তাব করেন। এটি হচ্ছে বাংলাদেশের ৪৪তম বাজেট এবং আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬তম। আর অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবুল মাল আবদুল মুহিতের নবম বাজেট।
২০১৫-১৬ অর্থবছরের অভ্যন্তরীণ ঋণ হিসেবে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা দীর্ঘ মেয়াদি ঋণ (নিট) ২৪ হাজার ১৮২ কোটি টাকা। আর স্বল্প মেয়াদি ঋণ (নিট)নেবে ১৪ হাজার ৩৪১ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে।
২০১৪-১৫ অর্থবছরের ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে দীর্ঘ মেয়াদি ঋণের (নিট) লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ হাজার ৮২৪ কোটি টাকা নেবে। আর স্বল্প মেয়াদি ঋণ (নিট)নেবে ১১ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার হবে দুই লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এটি চলতি অর্থবছরের বাজেট অপেক্ষা ১৮ শতাংশ বেশি।
২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ৮৬ হাজার ৬৯৭ কোটি টাকা। ঘাটতি মেটাতে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেবে ৩৮ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে এর পরিমাণ ছিল ৩১ হাজার ৭১৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের চেয়ে ছয় হাজার ৮০৯ কোটি টাকা বেশি ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
এসআই/বিএ/পিআর