যুক্তরাষ্ট্রের ‘ধর্মীয় ভিত্তি পুনরুদ্ধারে’ ট্রাম্প প্রশাসনের প্রার্থনা
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনের কেন্দ্রস্থলে রোববার (১৭ মে) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশাল এক প্রার্থনা সমাবেশ। এতে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বক্তব্য দেবেন। আয়োজকরা একে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ধর্মীয় ভিত্তি পুনরুদ্ধারের’ উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করলেও সমালোচকরা বলছেন, এটি মূলত খ্রিস্টান জাতীয়তাবাদের পক্ষে আধা-সরকারি সমাবেশে পরিণত হয়েছে।
রোববারের (১৭ মে) এই প্রার্থনা সমাবেশ প্রায় নয় ঘণ্টা চলবে বলে নির্ধারণ করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউজের ফেইথ অফিসের প্রধান ও ট্রাম্পের কথিত ‘আধ্যাত্মিক উপদেষ্টা’ টিভি ধর্মপ্রচারক পাওলা হোয়াইট গত মাসে এক ওয়েবিনারে বলেন, এই সমাবেশ আমাদের জাতির ইতিহাস ও ভিত্তি নিয়ে, যা খ্রিস্টান মূল্যবোধ ও বাইবেলের ওপর গড়ে উঠেছে। এটি সত্যিকার অর্থেই দেশকে আবার ঈশ্বরের প্রতি উৎসর্গ করার উদ্যোগ।
এই সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার তালিকায় রয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভিডিও বার্তার মাধ্যমে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বক্তব্য দিতে পারেন বলে জানানো হয়েছে।
হোয়াইট হাউজ যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সমাবেশের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে অংশ নিতে নাগরিকদের আহ্বান জানিয়ে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় পিট হেগসেথ বলেন, এটি ‘ঈশ্বর ও দেশের প্রতি এই প্রজাতন্ত্রকে পুনরায় উৎসর্গ করার’ সুযোগ।
ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে কট্টর খ্রিস্টান জাতীয়তাবাদ নতুন করে শক্তিশালী অবস্থান পেয়েছে। একইসঙ্গে ইভানজেলিকাল খ্রিস্টানরা ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান সমর্থকগোষ্ঠী হিসেবেও পরিচিত।
পিট হেগসেথ নিজেও একটি অতিরক্ষণশীল ইভানজেলিকাল চার্চের সদস্য। ইরান যুদ্ধ নিয়ে তার বিভিন্ন ব্রিফিংয়ে যুদ্ধংদেহী খ্রিস্টান ধর্মীয় ভাষা ব্যবহারের বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে রাষ্ট্রীয় কোনো ধর্ম প্রতিষ্ঠা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে একইসঙ্গে যে কোনো ধর্ম পালনের স্বাধীনতাও স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে বিভিন্ন মার্কিন প্রশাসন ও প্রেসিডেন্ট ধর্মভিত্তিক সমাবেশ আয়োজন বা তাতে অংশ নিলেও এবারের অনুষ্ঠানটি আকার ও শীর্ষ মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের উপস্থিতির কারণে ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া বক্তাদের তালিকায় থাকা ২০ জন ‘ধর্মীয় নেতার’ মধ্যে একজন রাব্বি ও একজন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাথলিক আর্চবিশপ ছাড়া প্রায় সবাই ইভানজেলিকাল প্রোটেস্ট্যান্ট।
টেক্সাসের খ্রিস্টান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেইলর ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক স্যাম পেরি বলেন, ইভানজেলিকাল পাদ্রি বা রক্ষণশীল ধর্মীয় নেতাদের একত্র হয়ে জাতীয়তাবাদ ও রক্ষণশীল খ্রিস্টধর্মকে একসঙ্গে উপস্থাপন করা নতুন কিছু নয়। তবে এত বড় পরিসরে এই উদযাপনের নেতৃত্ব ট্রাম্প প্রশাসন নিজে দিচ্ছে বলে এটি আগের আয়োজনগুলোর তুলনায় ভিন্ন।
আয়োজকদের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এই প্রার্থনা সমাবেশ ‘সব মার্কিন নাগরিকের’ জন্য উন্মুক্ত। তবে ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ফ্লোরিডার ধর্মীয় অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক জুলি ইনগারসোল মনে করেন, বক্তাদের তালিকা এমন এক ‘আমেরিকান পরিচয়ের ধারণা’ তুলে ধরে, যা ‘শ্বেতাঙ্গত্ব ও খ্রিস্টধর্মের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে’।
ইনগারসোল বলেন, এই আয়োজন একটি নির্দিষ্ট বার্তা দিচ্ছে, যেন তারাই মূলধারার আমেরিকান। আর বাকিদের পাশে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
মার্কিন কংগ্রেস ভবন থেকে লিঙ্কন মেমোরিয়াল পর্যন্ত বিস্তৃত ‘ন্যাশনাল মল’ দীর্ঘদিন ধরেই বড় ধরনের সমাবেশ ও বিক্ষোভের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সবচেয়ে বিখ্যাত ছিল ১৯৬৩ সালের ‘মার্চ অন ওয়াশিংটন’, যেখানে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ঐতিহাসিক ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’ ভাষণ শুনেছিলেন।
সূত্র: এএফপি
এসএএইচ