লেনদেনে নেতিবাচক ধারা পুঁজিবাজারে
প্রস্তাবিত বাজেটে ইতিবাচক ঘোষণা থাকলেও পুঁজিবাজারে নেতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে পতন বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে দেশের শেয়ারবাজার। গত সপ্তাহেও লেনদেনে নেতিবাচক ধারা অব্যাহত ছিল দেশের উভয় পুঁজিবাজারে।
এদিকে বাজেট পুঁজিবাজার বান্ধব হলে চাঙ্গা হবে বাজার এমন ধরণা ছিল বাজার সংশ্লিষ্টদের। কিন্তু ইতিবাচক অনেক ঘোষণা থাকলেও তেমন আশানুরূপ সাড়া পড়ছে না বাজারে।
গত সপ্তাহ জুড়ে বেশিদিন মন্দাভাব ছিল দেশের পুঁজিবাজারে। দেশের প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এক সপ্তাহের ব্যবধানে টাকার অংকে লেনদেন কমেছে ২৭ দশমিক ৬১ শতাংশ। প্রধান সূচক চার পয়েন্ট বাড়লেও কমেছে ডিএসই৩০ সূচক, বাজার মূলধন দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৯৩৬ কোটি ২১ লাখ ২২ হাজার ২৬ টাকার। আগের সপ্তাহের চেয়ে ৭৩৪ কোটি ৪২ লাখ ২৩ হাজার ২২৩ টাকা বা ২৭ দশমিক ৬১ শতাংশ কম। আগের সপ্তাহের লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৬৭৪ কোটি ৩ লাখ ৪৫ হাজার ২৪৯ টাকা।
সপ্তাহ শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৪ দশমিক ৭২ পয়েন্ট বা দশমিক ১০ শতাংশ। ডিএস৩০ সূচক কমেছে ১ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট বা দশমিক ১০ শতাংশ। আর শরীয়াহ বা ডিএসইএস সূচক বেড়েছে ২ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট বা দশমিক ২২ শতাংশ।
গেল সপ্তাহে বেড়েছে লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর। ডিএসইতে তালিকাভুক্ত মোট ৩২৫টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৪ টির, কমেছে ১৩৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৮টির। আর লেনদেন হয়নি ৪টি কোম্পানির শেয়ার।
সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। আর সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়ে ১৫ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
অন্যদিকে গেল সপ্তাহে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)সিএএসপিআই সূচক কমেছে দশমিক শূন্য ৮৫ শতাংশ। সিএসই৩০ সূচক বেড়েছে দশমিক ১৫ শতাংশ। আর সিএসইএক্স সূচক বেড়েছে দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।
সপ্তাহে সিএসইতে গড়ে মোট লেনদেন হয়েছে ২৭৪টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৬টির, কমেছে ১১৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২১টির। টাকার অংকে লেনদেন হয়েছে ২০২ কোটি ২৮ লাখ ৬২ হাজার ৮০০ টাকা। যা গত সপ্তাহের আগের সপ্তাহের তুলনায় ১১৪ কোটি টাকা কম। তার আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৩১৬ কোটি ৬ লাখ ৬৮৪ টাকা।
প্রসঙ্গত, প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের পুঁজিবাজারের জন্য বেশ কয়েকটি সুখবর রয়েছে। এগুলো মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- করমুক্ত লভ্যাংশের আয়ের সীমা বৃদ্ধি, কর্পোরেট করহার হ্রাস, আইপিওতে ২০ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার ক্ষেত্রে কর রেয়াত সুবিধা, মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে উৎস কর আদায় থেকে অব্যাহতি এবং ব্যাংক, বীমা কোম্পানি ব্যতিরেকে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ১৫ শতাংশের কম লভ্যাংশের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ করারোপের প্রস্তাব দেওয়া হযেছে।
এসআই/এআরএস/পিআর