কর দিলেন সেলিব্রেটিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:২২ এএম, ২৮ নভেম্বর ২০১৭
কর দিলেন সেলিব্রেটিরা

নাগরিক দায়িত্ববোধ থেকে কর দিলেন সেলিব্রেটিরা। একই সঙ্গে কর সংক্রান্ত সকল ভীতি দূর করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীরা।

সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে কর অঞ্চল-১২ কর প্রদান করেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী, অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস, অভিনেতা অমিত হাসান, নাট্যকার ও অভিনেতা বৃন্দাবন দাস, বৃন্দাবন শাহনাজ খুশী।

কর অঞ্চলে করসেবা দেখে এনবিআরের প্রশংসা করেন এসব সেলিব্রেটিরা। কর অঞ্চল-১২ এর নিয়মিত করদাতা অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘আমি নাগরিক দায়িত্ব থেকে কর দেই। এনবিআরের করসেবায় মুগ্ধ। এ সেবা সারা বছর চালু রাখলে করদাতাদের ভয় কেটে যাবে, দেশ করের টাকায় স্বাবলম্বী হবে।’

করসেবা পরিদর্শন শেষে সেলিব্রেটিদের নিয়ে কর অঞ্চল-১২ আলাপন সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনবিআর সদস্য কালিপদ হালদার।

সভায় নিজের কর প্রদানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, কর বিষয়ে আমার ভয় ছিল। অনেক বছর আগ থেকে একজন আইনজীবীর মাধ্যমে কর প্রদান করে আসছি। কর বিষয়ে আমরা তেমন ধারণা ছিল না। একটা পর্যায়ে দেখলাম সে আমার থেকে অনেক বেশি কর নিচ্ছেন, বিভ্রান্ত করছেন। এনবিআরের প্রচারণা আর সেবার কারণে এখন অনেক সচেতন হয়েছি।

তিনি আরও বলেন, গত কয়েক বছর ধরে এনবিআরের পদক্ষেপের ফলে আমরা শিল্পীরাও কর দিবস, র্যালি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি। আমরা শিল্পীরা কর বিষয়ে সচেতন হয়েছি। এনবিআর করমেলা, কর সপ্তাহের পাশাপাশি আরও সচেতনতা বাড়াতে, করদাতাদের আরও বেশি উৎসাহী করতে সারা বছর বিভিন্ন অনুষ্ঠান করা যেতে পারে। এতে জনগণের মধ্যে কর বিষয়ে সহজ ধারণা হবে, ভীতি দূর হবে।

বৃন্দাবন শাহনাজ পারভীন বলেন, হতাশ হবার কারণ নেই। আমরা কর প্রদানে যেভাবে আন্দোলিত ও আগ্রহী হয়েছি সবাই কর প্রদানে এমন হবেন বলে আমার বিশ্বাস।

চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস এনবিআরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জনগণ আগে কর অফিস আর কর কর্মকর্তাদের কথা শুনলে ভয় পেত। কর অফিসে আসত না। এখন এত বেশি সচেতনতা তৈরি হয়েছে যে মানুষ ভিড় করে কর দেয়। নিজের টাকায় উন্নয়ন দেখতেই করদাতারা এত ভিড় করছে। শিল্পীদের মধ্যেও আর কোনো ভয় কাজ করে না। তারপরও মানুষের মধ্যে কর অফিস সম্পর্কে একটা ভীতি আছে। তা দূর করতে এনবিআরকে আরও বেশি উদ্যোগ নিতে হবে।

অভিনেতা অমিত হাসান বলেন, কর ভীতি দূর করতে এনবিআর অনেক কাজ করে যাচ্ছে। এর ফলে সচেতনতা বেড়েছে। তার প্রমাণ কর অঞ্চলে আমাদের আসা, করদাতাদের আসা। আরও বেশি সচেতনতা তৈরিতে এনবিআর সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নিতে পারে। যাতে আমরা শিল্পীরা তাদের সহযোগিতা করতে পারি।

নাট্যকার ও অভিনেতা বৃন্দাবন দাস কর দেয়ার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে কর দেই। সেবার মান অনেক বেড়েছে। আমার করের টাকায় পদ্মাসেতুর মত বড় প্রকল্প হচ্ছে। উন্নয়ন দেখে দেশের মানুষকে আরও বেশি কর প্রদানে এগিয়ে আসা উচিত। আমরা চাই জনগণকে কর বিষয়ে আরও বেশি সচেতন করতে।

অনুষ্ঠানে কল্লোল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফা করসেবায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, গত ৪৫ বছর ধরে কর দেই। কর বিষয়ে যেসব ভ্রান্ত ধারণা ছিল সব দূর হয়ে গেছে। মানুষের মধ্যে কর অফিস সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা এসেছে। কর প্রদানের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে কাজ করতে হবে।

এনবিআর সদস্য কালিপদ হালদার বলেন, আমরা কর বিষয়ে সচেতনতায় কাজ করছি। আয়কর মেলা, আয়কর সপ্তাহসহ অন্যান্য পদক্ষেপের মাধ্যমে আর কিছু না পারি বৃত্তের বাইরে গিয়ে করসেবা দিতে পেরেছি। মানুষের মধ্যে এখনো কর নিয়ে ভীতি রয়েছে। আমরা তা দূর করতে কাজ করছি।

কর অঞ্চল-১২ এর কমিশনার সোয়েব আহমেদ সেলিব্রেটি করদাতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা যথেষ্ট চেষ্টা করছি কর বিষয়ে মানুষের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে। করদাতারা আমাদের সহযোদ্ধা, শত্রু নয়। করবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে এনবিআর চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় কর্মকর্তা কাজ করছে, করসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে বিকেন্দ্রীকরণ আয়কর মেলা ও আয়কর সপ্তাহে কর অঞ্চল-১২ অভিনেত্রী ফারহানা মিলি, গায়িকা ফাতেমাতুজ্জোহরাসহ বেশ কিছু সেলিব্রেটি করদাতা রিটার্ন দাখিল ও করসেবা গ্রহণ করেন।

এমএ/আরএস/জেআইএম