‘অরিজিনাল’ হাজীর বিরিয়ানি, আসল না!

সাঈদ শিপন
সাঈদ শিপন সাঈদ শিপন , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:১৮ পিএম, ০৩ জানুয়ারি ২০১৮

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ‘হাজীর বিরিয়ানি’র নাম ব্যবহার করে তিনটি স্টল খাবারের ব্যবসা করছে। এর মধ্যে একটি স্টলের সামনের সাইনবোর্ডে বড় করে লেখা ‘হাজীর বিরিয়ানি’। এ নামের আগে ছোট করে লেখা রয়েছে ‘অরিজিনাল’।

হাজীর বিরিয়ানির আগে অরিজিনাল লেখা থাকলেও এটি পুরনো ঢাকার নাম করা আসল ‘হাজীর বিরিয়ানি’ না। মূলত হাজীর বিরিয়ানি নাম ভাঙিয়ে মোট অংকের মুনাফা তুলে নিতেই এমন কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে মাদারীপুরের প্রতিষ্ঠানটি।

শুধু এটি নয়, মেলায় হাজীর বিরিয়ানি নাম ব্যবহার করে বাকি যে দুটি প্রতিষ্ঠান খাবারের ব্যবসা করছে তার একটিও আসল হাজীর বিরিয়ানি না।

পুরনো ঢাকার নাজির বাজারের আলাউদ্দিন রোডের হাজীর বিরিয়ানির মূল শাখায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাণিজ্য মেলায় তাদের কোনো স্টল নেই। যারা এ নামে ভাঙিয়ে ব্যবসা করছে, তারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে।

ক্রেতাদের এ প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করতে মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবার ছোটখাট একটি উদ্যোগ নিয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান হাজীর বিরিয়ানির নাম ব্যবহার করলে ওই প্রতিষ্ঠানটি কোন অঞ্চলের এবং প্রতিষ্ঠানটির পূর্ণাঙ্গ নাম সমান অক্ষরে লিখতে হবে। হাজীর বিরিয়ানী বড় অক্ষরে এবং নামের অন্য অংশ ছোট অক্ষরে লিখলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এ উদ্যোগও খুব একটা কাজে আসছে না।
শুধু হাজীর বিরিয়ানি নাম ব্যবহারই নয়, প্রতিষ্ঠানগুলোতে খাবারের দামও রাখা হচ্ছে গলা কাটা।

মেলার ভিআইপি গেট দিয়ে প্রবেশ করে বাম দিকে এগোলেই চোখে পড়বে বড় অক্ষরে লেখা হাজীর বিরিয়ানি সাইন বোর্ড। এ নামের আগে প্রতিষ্ঠানটি একটু ছোট করে লিখে রেখেছে ‘অরিজিনাল’। আর হাজীর বিরিয়ানির নিচে একেবারে ছোট করে লেখা হয়েছে ‘বাজার রোড, মাদারীপুর’।

haji-02

গতকাল স্টলটিতে ঢুকে খাবারের মেনু চাইলে প্রতিষ্ঠানটির মালিক পরিচয় দিয়ে মো. হারুন বলেন, ‘এখনো মেনু আনা হয়নি। তবে এখন যেসব খাবার বিক্রি করছি তার দাম জেনে নিতে পারবেন।’

এরপর তিনি বলেন, এক প্লেট (ফুল) মাটন কাচ্চির দাম ৩৫০ টাকা, আর হাফ নিলে ২০০ টাকা। চিকেন বিরিয়ানির দাম এক প্লেট (ফুল) ৩২০ টাকা, আর হাফ ১৮০ টাকা। এছাড়া ১০০ টাকায় প্লেট চটপটি এবং ১২০ টাকায় প্লেট ফুসকা।

খাবারের এতো দাম কেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক টাকা খরচ করে স্টল নেয়া। খরচও উঠাতে হবে। খাবার বিক্রি করে তো লোকসান গুণতে পারি না। এখানে এসেছি লাভ করতে।

এদিকে প্রতিষ্ঠানটি খাবারের দাম অতিরিক্ত রাখায় এক ক্রেতা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতের অভিযোগও করেছেন। ওই ক্রেতার অভিযোগ ১৫ টাকার এক বোতল পানির দাম রাখা হয়েছে ২০ টাকা। এছাড়া বিরিয়ানির দাম রাখা হচ্ছে অনেক বেশি।

এ বিষয়ে মেলায় দায়িত্বে থাকা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতের এক কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। ভোক্তা অধিকার ক্ষুণ্ন হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অরিজিনাল হাজীর বিরিয়ানির এক স্টল পরেই রয়েছে আরেকটি হাজীর বিরিয়ানির স্টল। স্টলটির সামনের সাইন বোর্ডে লেখা ‘হাজীর বিরিয়ানি এন্ড শাহী কস্তূরী কাবাব’। এখানেও চতুরতার আশ্রয় নেয়া হয়েছে। সাইনবোর্ডটি দুই লাইনে লেখা। উপরে বড় অক্ষরে লেখা ‘হাজীর বিরিয়ানি’। এর নিচে ছোট করে লেখা ‘এন্ড শাহী কস্তূরী কাবাব’।

এ দুটি স্টলের পাশাপাশি আর একটি হাজীর বিরিয়ানির স্টল রয়েছে মেলার মাঝামাঝি স্থানে। সেখানেও খাবারের কোনো মেনু এবং মূল্য তালিকা পাওয়া যায়নি।

এমএএস/এমবিআর/এমআরএম/জেআইএম