কয়েদিদের কারুপণ্যে মুগ্ধ ক্রেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০১ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০১৮
কয়েদিদের কারুপণ্যে মুগ্ধ ক্রেতারা

মেলায় পাওয়া যাচ্ছে কয়েদিদের কারুপণ্য। এবারই প্রথম কয়েদিদের হাতে উৎপাদিত পণ্য নিয়ে বাণিজ্য মেলায় হাজির হয়েছে কারা কতৃর্পক্ষ। পুঁথি, তাঁত, পাট, বাঁশ, কাঠ ও প্লাস্টিকের তৈরি ৩৮ ধরনের কারুপণ্য পাওয়া যাচ্ছে এবারের মেলায়। এসব পণ্যে ক্রেতা আকর্ষণও বেশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কারাপণ্যে মুগ্ধ ক্রেতারা। বাণিজ্য মেলায় ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। আজ (শনিবার) বাণিজ্য মেলার কারা প্যাভিলিয়নে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের বেশ ভিড়। কয়েদিদের হাতে তৈরি পণ্য দেখে অভিভূত সবাই। মূল্যও সাশ্রয়ী।

কয়েদিদের তৈরি প্রদর্শিত পণ্যের কাটতি দেখে খুশি প্যাভিলিয়নে দায়িত্বরতরাও। তারা জানান, পণ্য বিক্রির একটি অংশ পাবেন কয়েদিরা।

কারাপণ্যের মূল্যের বিষয়ে ক্রেতা আসপিয়া বেগম বলেন, দাম নাগালের মধ্যে। এখানে অনেক পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। যেসব পণ্য বাইরে হাজার টাকা, সেসব পণ্য এখানে চারশ থেকে পাঁচশ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মানও ভালো।

পরিবারসহ ছুটির দিনে মেলায় এসেছেন জাফর আহমেদ। কারা প্যাভিলিয়নে এসে তিনি অভিভূত। বলেন, কারাগারে যারা বন্দি তাদের সুনিপুণ হাতে তৈরি এসব পণ্য, ভাবাই যায় না! কতো সুন্দর এসব পণ্য, এভাবে প্রতিটি কারাগারে বন্দিদের জন্য কর্মক্ষেত্রের ব্যবস্থা করা গেলে তাদের একাকিত্ব সময়ের অবসান হবে, আর্থিকভাবেও তারা লাভবান হবেন।

‘বেতের তৈরি মোড়া, চেয়ারের মূল্য বাইরে অনেক। এখানে মোড়া ছয়শ আর চেয়ার ২৫শ’ থেকে চার হাজার টাকার মধ্যে পাচ্ছি। এ কারণে এখান থেকে কিনে নিলাম। পণ্যের মানও বেশ ভালো’- যোগ করেন তিনি।

কারা প্যাভিলিয়নে দায়িত্বরত সেলস ইনচার্জ মো. নাসির লস্কর (ময়মনসিংহ কারাগারের প্রধানরক্ষী) বলেন, বাণিজ্য মেলায় ৩৮টি কারাগারের পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় লাখ টাকার মতো বিক্রি হচ্ছে। পণ্য বিক্রির একটি অংশ পাচ্ছেন কয়েদিরা।

তিনি আরও বলেন, পুঁথি, তাঁত, পাট, বাঁশ, কাঠ ও প্লাস্টিকের তৈরি পণ্য তাদের প্যাভিলিয়নে পাওয়া যাচ্ছে। বাঁশ ও বেতের তৈরি প্রতিটি মোড়া ৬০০ থেকে ৮৫০ টাকা, সিংহাসন চেয়ার আড়াই হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা, কুলা ও চালনি ১০০ থেকে ৩০০ টাকা, ফুল ও ফলের ঝুড়ি ১০০ থেকে ২৫০ টাকা, পানদানি, কলমদানি ও ফুড কভার আকার ভেদে ৩০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে উলেন গেঞ্জি ও টি-শার্ট, নকশিকাঁথা আড়াই হাজার থেকে চার হাজার, বুটিক ও বাটিকের থ্রি-পিস ৫০০ থেকে দেড় হাজার টাকা, গামছা ও লুঙ্গি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং বেডশিট এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শুধু তা-ই নয়, হস্তশিল্পের পুঁথি দানার ব্যাগ, পার্স ব্যাগ, নৌকা, ফুলদানি, টিসু বক্স, শো-পিসসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে এ প্যাভিলিয়নে। কয়েদিদের কাঠের তৈরি খাট ২২ হাজার টাকা, আলমিরা ও ওয়্যারড্রব ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা এবং ড্রেসিং টেবিল ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এমএ/এমএআর/বিএ/আরআইপি