ক্রেডিট রিপোর্ট আমলে না নেয়ায় ৬০০ কোটি টাকার অনিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২৫ এএম, ২৯ মে ২০১৮

সম্প্রতি ২৬টি প্রতিষ্ঠান পণ্য রফতানি করার পরও পেমেন্টে পায়নি। আমদানিকারকদেরও খুঁজে পাওয়া যায়নি। এতে ৬০০ কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে। ক্রেডিট রিপোর্ট অনুসারে যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়ায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (২৮ মে) রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) উপস্থাপিত প্রবন্ধে এ তথ্য জানানো হয়।

‘প্র্যাকটিসেস অব অবটেইনিং ক্রেডিট রিপোর্ট অব ফরেন কাউন্টার পার্টস ইন ট্রেড সার্ভিসেস-ইজ ইট ওয়ার্কিং?’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈদেশিক বাণিজ্যের ঝুঁকি ও খরচ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা ব্যাংকিং খাতের সংগঠন মিলে ক্রেডিট রিপোর্টের জন্য তথ্য ভান্ডার সৃষ্টি করা যেতে পারে। এতে কোনো দুর্বল এবং ভুয়া ক্রেডিট রিপোর্ট সরবরাহের সুযোগ থাকবে না। আর্ন্তজাতিক বাণিজ্যে ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে। অনিয়ম এবং জালিয়াতির ঘটনাও কমে আসবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বিআইবিএমের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধূরী।

গোলটেবিল বৈঠকে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের অধ্যাপক এবং পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. শাহ মো. আহসান হাবীব। ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এ গবেষণা সম্পন্ন করেন। গবেষণা দলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন বিআইবিএমের সহকারী অধ্যাপক অন্তরা জেরীন, বিআইবিএমের সহকারী অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্টের যুগ্ম পরিচালক প্রদীপ পাল, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মাহমুদুর রহমান এবং মিউচুয়্যাল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট এ টি এম নেছারুল হক।

ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সেবার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো দক্ষতার পরিচয় দিতে না পারলে ব্যাংক এবং রাষ্ট্রীয় ঝুঁকি দুটোই বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘অর্থ পাচার ঠোকানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। শেল ব্যাংকগুলোর (ব্যাংকটি যে দেশে নিবন্ধিত কিন্তু সে দেশে কোনো শাখা বা কার্যক্রম নেই) সঙ্গে কোনো লেনদেন যাতে না হয়, সেজন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আরও কিছু উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় বিআইবিএমের অধ্যাপক এবং পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. শাহ মো. আহসান হাবীব বলেন, ‘সম্প্রতি একটি রফতানি আদেশের বিপরীতে ২৬টি প্রতিষ্ঠান পণ্য রফতানি করার পরও পেমেন্টে পায়নি। আমদানিকারককে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ৬০০ কোটি টাকা অনিয়মের ঘটনা পরবর্তীতে সবার নজরে আসে। ক্রেডিট রিপোর্ট অনুসারে যথাযথ ব্যবস্থা নিলে এ ধরনের ঘটনা ঘটত না।’

তিনি বলেন, ‘ক্রেডিট রিপোর্ট হলো বিদেশি আমদানিকারক বা রফতানিকারকের বিষয়ে বিশদ বিবরণ। এর পেছনে প্রতিবছর প্রায় দেড় কোটি ডলার অর্থ ব্যয় হয়, যা অযৌক্তিক নয়। কিন্তু ক্রেডিট রিপোর্ট একদিকে যথাযথভাবে হয় না, অন্যদিকে গদ বাঁধা হলেও এসব ক্রেডিট রিপোর্ট কোনো ধরনের বিশ্লেষণ করা হয় না। ফলে অনেক ভুয়া প্রতিষ্ঠান জাল-জালিয়াতির সুযোগ পায়।’

বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত এ খোদা বলেন, ‘আর্ন্তজাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম যাতে না হয়, সেজন্য ব্যাংকারদের সর্তক থাকতে হবে। ব্যাংকাররা সর্তক থাকলে কোনো অনিয়মের ঘটনা ঘটার সুযোগ নেই।’

বিআইবিএমের সুপার নিউমারারি (সংখ্যাতিরিক্ত) অধ্যাপক এবং পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হেলাল আহমদ চৌধূরী বলেন, ‘ব্যাংকারদের আরও সচেতন হতে হবে। কারণ, কেউ যেন ব্যাংকারদের ব্যবহার করে অবৈধ সুবিধা কিংবা টাকা পাচার করতে না পারে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও বিআইবিএমের সুপার নিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী অর্থ পাচারের ৮৩ শতাংশ হয় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে। এ কারণে ব্যাংক সতর্ক থাকলে কোনো অনিয়ম ঘটার সুযোগ নেই।’

কমার্সজ ব্যাংক এজির চীফ রিপ্রেজেনটেটিভ তৌফিক আলী বলেন, ‘ব্যাংকের পরিচালকদের লোভের কারণে অনেক অনিয়ম-দুর্নীতি সংঘটিত হচ্ছে। ব্যাংক পরিচালকদের লোভ সংবরণ করতে হবে। একই সঙ্গে ট্রেড সার্ভিস বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।’

এসআই/এমএ/এসআর/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]