সমুদ্রগামী জাহাজশিল্পে কর্পোরেট ট্যাক্স কমানোর দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:২০ পিএম, ০৭ এপ্রিল ২০১৯

সেবাশিল্প হিসেবে বাংলাদেশের পতাকাবাহী সমুদ্রগামী জাহাজশিল্পের কর্পোরেট ট্যাক্স কমানোসহ নীতিসহায়তা ও আর্থিক প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ওশানগোয়িং শিপওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিওজিএসওএ)।

রোববার শিল্প মন্ত্রণালয়ে বিওজিএসওএর প্রতিনিধি দল শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের সঙ্গে বৈঠকে এ দাবি জানান। বৈঠকে শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিম, বিওজিএসওএ সভাপতি আজম জে চৌধুরী, সহ-সভাপতি মোস্তফা কামাল ও শেখ বশির উদ্দিন, সেক্রেটারি জেনারেল রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) এ এস এম আব্দুল বাতেন, সদস্য মো. শাহজাহান উপস্থিত ছিলেন।

বিওজিএসওএর নেতারা জানান, শিল্প মন্ত্রণালয় ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশের পতাকাবাহী সমুদ্রগামী জাহাজ ব্যবসাকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু এখনও এ খাত আর্থিক সুবিধা ও প্রণোদনা পায়নি। তারা তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের অনুরূপ উৎসে কর, ডিউটি ড্র-ব্যাক, ইউডিএফ লোন, প্যাকিং লোন সুবিধাসহ নগদ প্রণোদনার দাবি করেন।

ব্যবসায়ীরা বলেন, বর্তমানে সমুদ্রপথে পণ্য আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে ফ্রেইট চার্জ বাবদ খরচের ৯০ শতাংশেরও বেশি বিদেশি জাহাজ মালিকরা নিয়ে যাচ্ছে। দেশীয় সমুদ্রগামী জাহাজ মালিকদের আয়করসহ অন্যান্য সুবিধা দিলে বছরে ফ্রেইট চার্জ বাবদ কমপক্ষে আড়াই বিলিয়ন মার্কিন ডলার সাশ্রয় সম্ভব।

silpo-2

প্রতিনিধি দলের সদস্যরা আরও বলেন, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কোনো ট্যাক্স আরোপ না করলেও জাহাজ আমদানির ক্ষেত্রে শতকরা ৫ ভাগ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আরোপ করেছে। ফলে এ শিল্পের উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া টেক্সটাইলসহ অন্যান্য খাতে কর্পোরেট ট্যাক্স ১৫ শতাংশ নির্ধারিত থাকলেও এ শিল্পখাতে তা ৩৫ শতাংশ ধার্য করা হয়েছে।

তারা সমুদ্রগামী জাহাজশিল্পের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ট্যাক্সসহ অন্যান্য বৈষম্য দূর করতে আসন্ন বাজেটে কার্যকর প্রস্তাব প্রেরণে শিল্পমন্ত্রীকে আহ্বান জানান।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, এ শিল্পে করসহ অন্যান্য অসঙ্গতি পরীক্ষা করে তা যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বরাবর সুপারিশ করা হবে। তিনি দেশীয় এ শিল্পের প্রসারে সরকারের নীতিসহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেন।

নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সমুদ্রগামী জাহাজশিল্পের প্রসারেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হবে। এ লক্ষ্যে নতুন শিল্পনীতিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা থাকবে বলে তিনি জানান।

এসআই/বিএ/পিআর