রফতানির মাধ্যমে টাকা পাচারকারী রক্ষা পাবে না : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩৯ পিএম, ১৮ জুলাই ২০১৯

টেরাকোটা টাইলস রফতানির মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচার করার বিষয়টি প্রমাণিত হলে পাচারকারীকে শাস্তি পেতেই হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সচিবালয়ে তার নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

এসবি গ্রুপ টেরাকোটা রফতানির নামে টাকা পাচার করেছে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। যেই করুক, তিনি যতই শক্তিশালী হোক, আমার পরিবারের সদস্য হলেও শাস্তির আওতায় আসতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি সব ব্যবসায়ীকে চিনি। ব্যবসায়ীদেরও আমাকে চিনতে হবে। ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে দেশ এগোবে। শতভাগ ব্যবসায়ী সৎ হবেন না। শতভাগ মানুষ সৎ হবেন না। কিন্তু সৎ মানুষও আছে। এই সংখ্যাও কম নয়।’

অর্থমন্ত্রী এ সময় সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান, এ পদ্ধতিতে যিনি টাকা পাচার করছেন তার সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য আছে কি না। সাংবাদিকরা এ সময় অর্থমন্ত্রীকে জানান, এসবি নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। শাহজাহান বাবলু নামের এক ব্যবসায়ী এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান। শাহজাহানের বাড়ি কুমিল্লা।

এ সময় অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘যদি তিনি (শাহজাহান বাবলু) করে থাকেন, তিনি যেই হোন, যত শক্তিশালী হন, তার বাড়ি যেখানেই হোক, তিনি যদি আমার পরিবারের সদস্যও হন, তবু তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় আসতে হবে। তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব। আপনারা দেখতে পাবেন।’

বাংলাদেশের অর্থপাচারের তদন্ত সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) অনুসন্ধান শেষে বলেছে, শাহজাহান বাবলু ব্যাংকের সহায়তায় বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। আবার রফতানি বিলের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন ১৯০ কোটি টাকা। রফতানির বিপরীতে সরকারি নগদ সহায়তা নেওয়ারও চেষ্টা হয়েছিল।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এ বছর বাংলাদেশে এক বিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি)। ইতোমধ্যে ৫০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে সংস্থাটি। বছর শেষে এই সহায়তা ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটিতে উন্নীত হবে।’

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘যে বাজেটটি চলমান সেটি আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে। বাজেট প্রণয়নের সময় বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে বৈঠক করেছিলাম। বাজেট বাস্তবায়নেও তাদের সঙ্গে বসতে চাই। আগে আমরা শুধু বাজেট তৈরি করার সময় বসতাম। এখন প্রতিনিয়ত বসবো। অন্তত ছয় মাস পর বাজেট বাস্তবায়নে আমরা কোথায় রয়েছি, সেটা নিয়ে সবার সঙ্গে আলোচনা করব।’

বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক পুরনো হিসাব নিয়ে আসলে আমি পারব না, অতীতেরগুলো টেনে এনে আমাকে জরাজীর্ণ করবেন না। বর্তমানগুলোর দায়িত্ব আমার।’

এমইউএইচ/এসআর/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :