মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৫১ পিএম, ১০ মার্চ ২০২০

দেশে বর্তমানে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর রয়েছে। এ তিনটির একটিও গভীর সমুদ্র বন্দর নয়। ফলে এগুলোতে অধিক ড্রাফটের জাহাজ বা ২ হাজার টিইইউএস কন্টেইনারের বেশি জাহাজ ভিড়তে পারে না। এই তিন সমুদ্রবন্দরের বিকল্প হিসেবে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে। এ বন্দরে অধিক ড্রাফটের ৮ হাজার টিইইউএস কন্টেইনারবাহী জাহাজ ভিড়তে পারবে।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ-সংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ‘মাতারবাড়ী পোর্ট ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পটি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

এতে মোট খরচ হবে ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি ১৬ লাখ ১৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দেবে ২ হাজার ৬৭১ কোটি ১৫ লাখ ১৪ হাজার, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২ হাজার ২১৩ কোটি ২৪ লাখ ৯৪ হাজার এবং বৈদেশিক ঋণ ১২ হাজার ৮৯২ কোটি ৭৬ লাখ ৫ হাজার টাকা।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্প এলাকা হলো কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ও ধলঘাট।

এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রার পর চতুর্থ বন্দর হচ্ছে মাতারবাড়ী। আমরা চাই বা না-চাই, অর্থনীতির চাপে বিশাল বন্দরে রূপান্তরিত হয়ে যাচ্ছে। আমাদের অর্থনৈতিক কার্যক্রম প্রচুর বেড়ে গেছে। আমাদের চট্টগ্রামবন্দরে যে কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং হয়, জায়গা হচ্ছে না।’

jagonews24

তিনি বলেন, ‘এটার সম্ভাব্যতা যাচাই, নকশা, লে-আউট করেছে জাইকা। আমাদের নিজস্ব একটা স্টাডি ছিল, এটা রিভাইস করেছে তারা। তারপর মোট খরচ এসেছে।’

প্রকল্প থেকে জানা যায়, বর্তমানে দেশে যে কয়েকটি সমুদ্রবন্দর রয়েছে, তার কোনটিই গভীর সমুদ্রবন্দর নয়। ফলে ডিপ ড্রাফটের ভেসেল এসব বন্দরের জেটিতে ভিড়তে পারে না। তাই ডিপ ড্রাফট ভেসেলের জেটি সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাতারবাড়ীতে সমুদ্রবন্দর নির্মাণ বিষয়ে অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। একটি গভীর সমুদ্রবন্দরের উন্নয়নের পাশাপাশি আধুনিক কন্টেইনারবাহী জাহাজ, খোলা পণ্যবাহী জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারের জেটিতে ভেড়ার সুযোগ সৃষ্টি করা, চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমানোর সঙ্গে সঙ্গে দেশের ক্রমবর্ধমান আমদানি-রফতানি চাহিদা পূরণ এবং মাতারবাড়ী ও মহেশখালী অঞ্চলে গড়েওঠা শিল্পাঞ্চলগুলোতে পণ্য পরিবহনে সহায়তা করাই এ বন্দর প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য।

জাইকার সার্ভে অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরে একটি জাহাজ সর্বোচ্চ ২ হাজার টিইইউএস কন্টেইনার নিয়ে ভিড়তে পারে। অথচ পার্শ্ববর্তী কলম্বো, জওহরলাল নেহেরু, করাচি ও চেন্নাই বন্দরে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ ভিড়তে পারে। এ বিবেচনায় মাতারবাড়ীতে অধিক ড্রাফটের জাহাজের সমুদ্রবন্দর নির্মাণ কন্টেইনার পরিবহনে বাংলাদেশের জন্য উত্তম বিকল্প। মাতারবাড়ীতে অধিক ড্রাফটের জাহাজের সমুদ্রবন্দর নির্মাণ কন্টেইনার পরিবহনে বাংলাদেশের জন্য ড্রাফটের ৮ হাজার টিইইউএস কন্টেইনারবাহী জাহাজ ভিড়তে পারবে। চট্টগ্রাম বন্দরে ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের এবং ৯ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের বেশি জাহাজ ভিড়তে পারে। যার ফলে মাদার ভেসেলগুলো বন্দরের জেটিতে আসতে পারে না। ফলে ফিডার জাহাজে করে কন্টেইনার আনা-নেয়া করতে হয়। প্রতিদিন ৩৫০০ থেকে ৩৮০০ টিইইউএস আমদানি পণ্য কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়ে থাকে। মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দরে ১৬ মিটার গভীরতার জন্য মাদার ভেসেল ভেড়ার সুযোগ থাকায় একসঙ্গে ৮ হাজার কন্টেইনারবাহী জাহাজ ভিড়তে পারবে। এর ফলে এখান থেকে ফিডার ভেসেলের মাধ্যমে দেশের অন্যান্য বন্দরে কন্টেইনার পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এ প্রকল্পের আওতায় বহুমুখী টার্মিনাল (১১ দশমিক ৮ হেক্টর, জেটির দৈর্ঘ্য ৩০০ মিটার) ও কন্টেইনার টার্মিনাল (২০ দশমিক ২ হেক্টর), কার্গো হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি ক্রয়, প্রাসঙ্গিক সুবিধার ব্যবস্থা এবং সরঞ্জাম ক্রয়, সংযোগ সড়ক নির্মাণ (প্রথমত দুই লেন ও সর্বশেষ ৪ লেনের ২৬ দশমিক ৭ কিলোমিটার সড়ক) এবং পরামর্শকসেবা (এফ/এস পর্যালোচনা, ডিডি, টিএ, সিএস, পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা, প্রযুক্তি হস্তান্তর) করা হবে।

পিডি/জেএইচ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]