লোকসানের ভারে ন্যুব্জ দুলামিয়া কটনের কারখানা বন্ধ
লোকসানে নিমজ্জিত দুলামিয়া কটনের কারখানার কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ডিএসই জানিয়েছে, ১৩ জুন অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ সভায় কারখানা কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির কারখানার কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এর কারণ হিসেবে কোম্পানিটি বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতির কথা জানিয়েছে। এদিকে ডিএসইর কাছে কোম্পানিটি চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (২০২০ সালের জানুয়ারি-মার্চ) আর্থিক প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। এ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি লোকসানের মধ্যে নিমজ্জিত রয়েছে। এমনকি সম্পদমূল্য ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ৪৫ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে এই লোকসানের পরিমাণ ছিল ৯০ পয়সা।
তৃতীয় প্রান্তিকে লোকসান হয় ৯ মাসের হিসাবে (২০১৯ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত) লোকসানের পরিমাণ বেড়েছে। চলতি হিসাব বছরের প্রথম ৯ মাসে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৫২ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি লোকসান হয় ৩ টাকা ২১ পয়সা।
বড় অঙ্কের লোকসানের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ মূল্যও ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে। চলতি বছরের মার্চ শেষে শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ৩৬ টাকা ৪৪ পয়সা। ২০১৯ সালের মার্চ শেষে শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য ছিল ঋণাত্মক ৩৫ টাকা ৯০ পয়সা।
এদিকে গত সপ্তাহে শেয়ার বাজারে দাম কমার দিক থেকে শীর্ষ স্থানটি দখল করে দুলামিয়া কটন। বিনিয়োগকারীরা কোম্পানিটির শেয়ার কিনতে আগ্রহী না হওয়ায় সপ্তাহজুড়েই দাম কমে। এতে কোম্পানিটির শেয়ার দাম ফ্লোর প্রাইস বা দাম কমার সর্বনিম্ন সীমায় এসে দাঁড়িয়েছে।
দাম কমে যাওয়ার পরও বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ কোম্পানিটির শেয়ার কিনতে আগ্রহী না হওয়ায় গত সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হয় মাত্র ২১ হাজার টাকা। আর প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন হয় চার হাজার ২০০ টাকা।
অপরদিকে শেয়ারের দাম কমে ৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ। টাকার অঙ্কে প্রতিটি শেয়ারের দাম কমে ২ টাকা ৩০ পয়সা। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম দাঁড়িয়েছে ৪৮ টাকা ১০ পয়সায়, যা তার আগের সপ্তাহ শেষে ছিল ৫০ টাকা ৪০ পয়সা।
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের লেনদেনেই কোম্পানিটির শেয়ার দাম কমে ফ্লোর প্রাইসে নেমে আসে। ফলে নতুন করে দাম কমার সুযোগ না থাকায় সপ্তাহের বাকি চার কার্যদিবস শেয়ারের দাম একই স্থানে আটকে থাকে।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ৭ কোটি ৫৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধিত মূলধনের এই কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৭৫ লাখ ৫৬ হাজার ৬০০টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে আছে ৩৩ দশমিক ১৬ শতাংশ শেয়ার। বাকি শেয়ারের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ৬৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ শেয়ার আছে।
এমএএস/এএইচ/পিআর