রুগ্ন কোম্পানি দিয়ে চলছে শেয়ারবাজার: আবু আহমেদ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৪৪ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

নেসলে, ইউনিলিভারের মতো বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে ব্যবসা করে মুনাফা বিদেশে নিয়ে গেলেও তারা মালিকানার সামান্য অংশ কেন বাংলাদেশকে দিতে চায় না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবু আহমেদ।

শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার হোটেল ওয়েস্টিনে যৌথভাবে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজার: বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, কতগুলো জাঙ্ক ও সিক (রুগ্ন) কোম্পানি দিয়ে শেয়ারবাজার চালানো হচ্ছে। নেসলে, ইউনিলিভারের মতো কোম্পানিগুলো শেয়ারবাজারে আসছে না। অথচ বাংলাদেশে ব্যবসা করে এসব কোম্পানি বিপুল পরিমাণ মুনাফা নিয়ে যাচ্ছে।

আবু আহমেদ বলেন, আমাদের বাজারে হতাশা ও আশা দুদিকই আছে। এই বাজারে ভালো কোম্পানি আনা দরকার হলেও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির সঙ্গে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ব্যবধান কমিয়ে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে সরকার সঠিক পলিসি নেয়নি।

এই শেয়ারবাজার বিশ্লেষক বলেন, ১০ শতাংশ গ্যাপ ছিল (তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে কর ব্যবধান), সেটা সাড়ে সাত শতাংশ করা হলো। আমরা যেখানে ১৫ শতাংশ গ্যাপ চেয়েছি, কিন্তু মাত্র সাড়ে সাত শতাংশ গ্যাপ করা হয়েছে।

‘এনবিআরের মোট ট্যাক্সের ৮০ শতাংশ আসে তালিকাভুক্ত কোম্পানি থেকে। সুতরাং এনবিআরের প্রচেষ্টা থাকা উচিত বেশি কোম্পানি পুঁজিবাজারে আনা। কোম্পানি কখন লিস্টিংয়ে আসবে? যখন তাদের লাভ হবে।’

Share2

আবু আহমেদ বলেন, বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে নেসলে আছে, ইউনিলিভার আছে। আমার এখানে নেই কেন? ১৭ কোটি মানুষ, এ দেশের মানুষকে অজ্ঞ, মুর্খ মনে করে তারা? পাবলিক ইন্টারেস্টে কিনা করা যায়? মেটলাইফে লাইন ধরে মানুষ টাকা জমা দিচ্ছে। কিন্তু তারা লিস্টেড না। কেন? কেউ কি প্রশ্ন করেছেন।

তিনি বলেন, কতগুলো সিক ইন্ডাস্ট্রি, জাঙ্ক ইন্ডাস্ট্রি দিয়ে শেয়ারবাজারকে চালানো হচ্ছে। আপনারা দেখেন ৩৫০টার মধ্যে কয়টা যোগ্য কোম্পানি। আমাদের ফোকাস করতে হবে তাদের (নেসলে, ইউনিলিভারের মতো কোম্পানি) আসতেই হবে। হয় ইনসেনটিভ দিয়ে, আমি মনে করি ইনসেনটিভ ভালো উপায়। ওরা অন্যখানে থাকলে এখানে থাকতে পারবে না কেন?

‘আমরা তাদের সাবান ব্যবহার করি, পারফিউম ব্যবহার করি, নুডুলস খাচ্ছি। বাইরে তাদের ২০-৩০ শতাংশ শেয়ার শেয়ারবাজারে ছাড়তে হয়। আমাদের এখানে মাত্র ১০ শতাংশ ছাড়লেই হয়। তারা আমাদের দেশে ব্যবসা করে বিপুল পরিমাণ মুনাফা নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মাত ১০ শতাংশ মালিকানা বাংলাদেশকে দিতে চায় না।

মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগকারীদের কনফিডেন্স কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর দায়ভর বিএসইসিরও আছে। এর মধ্যে অন্যতম কারণ হিসেবে বোনাস দেওয়া ও সময় বৃদ্ধি রয়েছে।

আইপিওতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মতো বড় বিনিয়োগকারীদের কোটা সুবিধা দেওয়া দরকার বলে মনে করেন আবু আহমেদ।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী, ড. এম খায়রুল হোসেন ও বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, আইসিএবি, আইসিএমএবি, আইসিএসবির প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন

এমএএস/এমআরএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।