বোনাস বাকি ৪৫৯৩ কল-কারখানায়
দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ। আগামী ২৯ জুন দেশজুড়ে পালিত হবে ঈদুল আজহা। আর মাত্র তিন দিন পর ঈদ শুরু। কিন্তু এখনো বোনাস দেয়নি দেশের ৪ হাজার ৫৯৩টি কারখানা। তবে বেশি জটিলতা রয়েছে ছোট কারখানায়।
সবার সমন্বয়ে গঠিত সভায় জুন মাসের পনের দিনের বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্ত। তবে জুন মাসের ১৫ দিনের বেতন হয়নি এখনও ৮ হাজার ৯৩১টি কারখানায়। মে মাসের বেতন বাকি আছে ৩০৩টি কারখানায়।
বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ, বেপজা,পাটকল ও শিল্পাঞ্চল পুলিশ সূত্র জানা গেছে, রোববার (২৫ জুন) বিকেল পর্যন্ত দেশের ৯ হাজার ৯১৫টি কল-কারখানার মধ্যে বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে ৫ হাজার ৩২২টি কল-কারখানায়। এখনও ৪৫৯৩টি কারখানা তাদের শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করেনি।
জুন মাসের ১৫ দিনের বেতন হয়নি ৮ হাজার ৯৩১টি কল-কারখানায়। অর্থাৎ শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করেছে মাত্র ৯৮৪টি কারখানা। মে মাসের বেতন পরিশোধ হয়েছে ৯ হাজার ৬১২টি কারখানায়, এখন বেতন বাকি ৩০৩টি কারখানায়।
তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও নিটওয়ার মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ অধিকাংশ বেতন পরিশোধ হয়েছে। তবে বিজিএমইএ’র ১ হাজার ৬২৪ কারখানার মধ্যে বোনাস হয়েছে ৯৬৩টি কারখানায়, বাকি রয়েছে ৬৬১টি কারখানা। বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত ৬৯৯টি কারখানার মধ্যে ৩১৭টি কারখানার বোনাস হয়েছে বাকি আছে ২৮২টি। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএম) ৩৫৯টির বোনাস হয়েছে ২০৬টিতে, বাকি আছে ১৫৩টি কারখানা।
বিজিএমইএ সহ-সভাপতি শহীদউল্লাহ আজিম জানান, সদস্যভূক্ত প্রতিটি কারখানায় বেতন-বোনাস হবে। আমরা আগে থেকেই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়ে আসছি। একই কথা জানায় বিকেএমইএ। সেখানেও বেতন হয়েছে এখন বোনাস প্রায় শেষের দিকে।
ছোট কারখানায় বেশি জটিলতা:
অন্যান্য ঈদের মতো এবারও ছোট ও সাব কন্ডাক্টে কাজ করা কারখানার বেতন-বোনাস নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এসব কারখানার বেতন-বোনাস অধিকাংশগুলোয় বাকি রয়েছে। অনেক কারখানা আবার নিজ উদ্যোগে বেতন-বোনাস পরিশোধ করছে।
এ বিষয়ে কথা হয় আলভি ফ্যাশনের জাহিদুল ইসলামের সাথে। তিনি জাগোনিউজকে বলেন, ছোট বা সাব কন্ডাক্টে কাজ হয় ভাড়াটে। অর্থাৎ বড় কারখানার কাজ আসে এখানে। তারা টাকা দিলে বেতন হয়, নাহলে কষ্টকর হয়ে পড়ে শ্রমিকের বেতন পরিশোধে। অনেকেই বেতন দিতে পারছে না এখন, আবার কেউ কেউ দিচ্ছেন। আমি চেষ্টা করেছি নিজের টাকায় সব পরিশোধ করার। আমার পুঁজি কম, শ্রমিক বাচলে কারখানা থাকবে তাই পকেটের টাকা দিয়েই বেতন-বোনাস পরিশোধ করেছি।
ইএআর/এমএইচআর