প্রাথমিকে কর্মঘণ্টা বাড়লো, শিক্ষকদের ক্ষোভ
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাসের সময় এবং শিক্ষকদের কর্মঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। এক শিফটের বিদ্যালয়ে ৩০ মিনিট এবং দুই শিফটের বিদ্যালয়ে ১৫ মিনিট সময় বাড়ানো হয়েছে।
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) থেকে যে ক্লাস রুটিন দেওয়া হয়েছে, তাতে এ সময় বাড়ানো হয়েছে। এক শিফট ও দুই শিফটের বিদ্যালয়ের দুটি রুটিন পর্যালোচনা করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
২০২৫ ও ২০২৬ সালের রুটিন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আগের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে এক শিফটের বিদ্যালয়ের ক্লাস শেষ হতো ৩টা ৩০ মিনিটে। তবে ২০২৬ সালের রুটিনে এক শিফটের বিদ্যালয়ের ক্লাস শেষ হবে ৪টায়। সেই হিসাবে এক শিফটের বিদ্যালয়ের কর্মঘণ্টা বা ক্লাসের সময় বেড়েছে আধাঘণ্টা।
অন্যদিকে দুই শিফটের বিদ্যালয়ে আগের বছর (২০২৫ সাল) ছুটি হতো বিকেল ৪টায়। তবে নতুন রুটিন অনুযায়ী- ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে দুই শিফটের বিদ্যালয়ে ছুটি হবে ৪টা ১৫ মিনিটে। এতে দুই শিফটের বিদ্যালয়ে কর্মঘণ্টা বেড়েছে ১৫ মিনিট।
এদিকে, নতুন রুটিনে বিদ্যালয়ে ক্লাসের সময় বাড়ানোয় ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষকরা। তারা বলছেন, প্রাথমিকের শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করলেও সরকার দাবি মেনে নেয়নি। সমাবেশে হামলা, এক জেলা থেকে আরেক জেলায় বদলিসহ হয়রানিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।
অথচ এবার প্রাথমিকের শিক্ষাপঞ্জিতে বাৎসরিক ছুটি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার ওপর আবার ক্লাসের সময়ও বাড়ানো হয়েছে। এতে শিক্ষকদের কর্মঘণ্টা বেড়েছে। বিষয়টি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
বিষয়টি নিয়ে জানতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
পরে অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২৫ সালে ক্লাস-পরীক্ষায় ব্যাপক ঘাটতি দেখা গেছে। এ নিয়ে অভিভাবক, শিক্ষাবিদরা উদ্বিগ্ন। সব দিক বিবেচনা করে রুটিনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সামনে আরও পরিবর্তন আসবে।
এএএইচ/ইএ/এমএস