প্রাথমিকে ফের নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা
• তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে হবে চার ঘণ্টার পরীক্ষা
• মন্ত্রণালয়ের আগ্রহে নতুন পদ্ধতি, বিশেষজ্ঞদের ভিন্নমত
প্রাথমিক স্তরেই শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মূল ভিত্তি গঠিত হয়। অথচ এ স্তরে বারবার মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। কোনোটিই টেকসই কিংবা যুগোপযোগী হচ্ছে না। ‘নড়বড়ে’ মূল্যায়ন পদ্ধতিতে মানিয়ে নিতে পারছে না এক কোটিরও বেশি কোমলমতি শিক্ষার্থী। বুঝতে হিমশিম খাচ্ছেন শিক্ষকরাও। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা।
জানা যায়, ২০২৩ থেকে টানা তিন বছরে তিন দফা মূল্যায়ন ও মানবণ্টন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফের তাতে বড়োসড়ো পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। এবার মূল্যায়ন পদ্ধতিতে লিখিত পরীক্ষার সঙ্গে রাখা হচ্ছে মৌখিক ও ব্যবহারিক। থাকছে ধারাবাহিক মূল্যায়নও।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, কারিকুলাম ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে হুট করে বড় পরিবর্তন আনলে শিক্ষার্থীরা ধাক্কা খায়। তারা খাপ খাইয়ে নিতে পারে না। তাদের মধ্যে শিক্ষাগ্রহণে ভীতির সৃষ্টি হয়। শেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে তারা। এজন্য টেকসই ও যুগোপযোগী কারিকুলাম ও মূল্যায়ন পদ্ধতি করতে হবে।
২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সাল— এ তিন বছরে তিনবার মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন করা হয়েছে। এবার ২০২৬ সালে আবার আরেক পদ্ধতি আনা হচ্ছে। আমরা সরকারি চাকরি করি, নির্দেশনা মানি। কিন্তু অভিভাবকদের এ মূল্যায়ন পদ্ধতি বোঝানো মুশকিল হয়ে পড়ে।- উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুমন শেখ
হঠাৎ মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন কেন?
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বর্তমান মূল্যায়ন পদ্ধতিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোনো লিখিত পরীক্ষা নেই। আর তৃতীয় থেকে পঞ্চমে শ্রেণি মূল্যায়ন ও সামষ্টিক মূল্যায়ন রয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ পদ্ধতিতে সন্তুষ্ট নয়। এজন্য প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষার ব্যবস্থা রেখে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে (এনসিটিবি) একটি মূল্যায়ন নির্দেশিকা তৈরির নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়। নির্দেশনা মেনে নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রণয়ন করেছে এনসিটিবি।
এনসিটিবির প্রাথমিক শিক্ষাক্রম বিভাগের একজন গবেষণা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পরীক্ষা না রাখার পক্ষে মত দিয়েছিলাম। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান যে, অভিভাবকরা নাকি এ পদ্ধতিতে সন্তুষ্ট নন। এ নিয়ে তাদের কাছে নাকি একের পর এক অভিযোগ-অনুযোগ আসছে।’
আরও পড়ুন
প্রাথমিকের মেধা যাচাই পরীক্ষা নিয়ে ‘ধোঁয়াশা’
ফের ফিরছে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা, বাড়ছে টাকা-শিক্ষার্থী
বছরে ১০০ দিনেরও কম ক্লাস, পড়ালেখায় চরম ঘাটতি
সময়মতো পাঠ্যবই দিতে আবারও ব্যর্থতা, সেই একই ‘অজুহাত’
তিনি আরও বলেন, ‘মূলত এ কারণে জাতীয় শিক্ষাক্রম কমিটির (এনসিসি) সভায় মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিবর্তনের বিষয় তোলা হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন মূল্যায়ন নির্দেশিকা করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। আমরা নির্দেশিকা তৈরি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠিয়েছি।’
নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি কেমন হবে?
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চূড়ান্ত করা মূল্যায়ন নির্দেশিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মোট ৫০০ নম্বরের মূল্যায়ন করা হবে। তিনটি আবশ্যিক ও চারটি ঐচ্ছিক বিষয়।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে আমরা কয়েকশ পাতার প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। অসংখ্য সুপারিশ করেছি। কিন্তু প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় তা আমলে নেয়নি। বরং তারা তাদের সুবিধামতো পরিবর্তন করে। এতে কার, কী স্বার্থ থাকে তা খতিয়ে দেখা দরকার।- প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গঠিত পরামর্শক কমিটির প্রধান ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ
আবশ্যিক বিষয়গুলোতে ৫০ নম্বরের ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও ৫০ নম্বরের সামষ্টিক মূল্যায়ন রাখা হয়েছে। বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে ৫০ নম্বরের ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা হবে। ক্লাসে পাঠদান চলাকালে শিক্ষক এ মূল্যায়ন করবেন।
বাকি ৫০ নম্বরের ওপর সামষ্টিক মূল্যায়ন করা হবে। এর মধ্যে থাকবে লিখিত ও মৌখিক বা ব্যবহারিক পরীক্ষা। বাংলায় লিখিত পরীক্ষা হবে ৩৫ নম্বরের এবং মৌখিক বা ব্যবহারিক হবে ১৫ নম্বরের ওপর। ইংরেজিতে লিখিত পরীক্ষা হবে ৩০ নম্বরের ও মৌখিক হবে ২০ নম্বরের। আর গণিতে লিখিত থাকবে ৪০ ও মৌখিকে থাকবে ১০ নম্বর।
আবশ্যিক তিন বিষয় বাদে বাকি চারটি বিষয়ে ৫০ নম্বর থাকবে। এর মধ্যে ২৫ নম্বর থাকবে ধারাবাহিক বা শ্রেণি মূল্যায়নে। আর ২৫ নম্বর থাকবে সামষ্টিক মূল্যায়নে। এক্ষেত্রে লিখিত ও মৌখিক বা ব্যবহারিক উভয় পরীক্ষা হতে পারে। ঐচ্ছিক বিষয়গুলো হলো—সামাজিক বিজ্ঞান ও প্রাথমিক বিজ্ঞান, ধর্মশিক্ষা, শিল্পকলা ও শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা।
তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে মোট ৭০০ নম্বরের ওপর মূল্যায়ন করা হবে। ছয়টি আবশ্যিক বিষয়ে থাকবে ৬০০ নম্বর। আর দুটি ঐচ্ছিক বিষয়ে থাকবে ৫০ করে ১০০ নম্বর।
মূল্যায়ন পদ্ধতি সহজ করলে তো প্রশিক্ষণে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া যাবে না। এখানেই মূল রহস্য। দফায় দফায় এসব পদ্ধতি পরিবর্তনের নামে ফন্দি-ফিকির করে প্রকল্প হাতে নেওয়া; প্রশিক্ষণের নামে অর্থ লোপাট করতেই এসব করা হয়।-গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী
তৃতীয় থেকে পঞ্চমে ছয়টি আবশ্যিক বিষয় হলো—বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, বিজ্ঞান এবং ধর্মশিক্ষা। এ ছয় বিষয়ে ৩০ নম্বরের ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা হবে। ক্লাস চলাকালে শিক্ষক এ মূল্যায়ন করবেন।
বাকি ৭০ নম্বরের ওপর সামষ্টিক মূল্যায়ন করা হবে। সামষ্টিক মূল্যায়নের মধ্যে আবার লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিক বা ব্যবহারিক থাকবে। বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে ৫৫ নম্বরের লিখিত ও ১৫ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। গণিত, বিজ্ঞান, ধর্মশিক্ষা এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে ৬০ নম্বরের লিখিত ও ১০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা হবে।
তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ৪ ঘণ্টার পরীক্ষা
নতুন মূল্যায়ন নির্দেশিকায় শিক্ষার্থীদের সামষ্টিক মূল্যায়নে পরীক্ষার সময়সীমা বেড়েছে। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ৭০ নম্বরের সামষ্টিক মূল্যায়ন পরীক্ষার সময় চার ঘণ্টা নির্ধারণ করা হয়েছে। লিখিত অংশ চলবে আড়াই ঘণ্টা ধরে এবং মৌখিক বা ব্যবহারিক অংশের পরীক্ষা হবে দেড় ঘণ্টা ধরে। সবমিলিয়ে চার ঘণ্টার পরীক্ষায় বসতে হবে তাদের। তবে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা হবে দুই ঘণ্টা।
চার ঘণ্টার মূল্যায়ন পরীক্ষা দেওয়া প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মাত্রাতিরিক্ত চাপ বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা। প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত পরামর্শক কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের কাঁধে বাড়তি বই দেওয়া যাবে না, বাড়তি পরীক্ষাও নেওয়া যাবে না। চার ঘণ্টার পরীক্ষা অবশ্যই শিশুশিক্ষার্থীদের তীব্র মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। বরং তাদের হাতে-কলমে আনন্দে শিখতে দিতে হবে। মূল্যায়ন ভীতিতে শিশুরা পড়ালেখায় আগ্রহ হারাবে।’
১০ মাসের জন্য নতুন পদ্ধতি, প্রশিক্ষণে যাবে ৪ মাস!
অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হবে। সেজন্য কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ করছে এনসিটিবি। অথচ ঠিক তার আগের বছর মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিবর্তন করা হচ্ছে। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
এনসিটিবি সূত্র জানায়, চলতি (২০২৬) শিক্ষাবর্ষে ১০ মাস শিক্ষার্থীরা ক্লাস পাবে। একটি শিক্ষাবর্ষ ও ১০ মাসের জন্য নতুন এ পদ্ধতি প্রণয়ন করা হয়েছে। এরপর নতুন কারিকুলাম এলে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে তা আবার পাল্টে যাবে।
এনসিটিবির প্রাথমিক শিক্ষাক্রম বিভাগের একজন গবেষণা কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ‘মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিবর্তন করলে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে হয়। এ পদ্ধতি অনুমোদনের পর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ধাপে ধাপে এ প্রশিক্ষণ শেষ করতেই চার মাস সময় লাগবে। চার মাস ধরে প্রশিক্ষণ নিয়ে তারপর তা বাস্তবায়নে নামতে হবে শিক্ষকদের। অর্থাৎ, নতুন এ পদ্ধতি চালু থাকবে ১০ মাস। তার জন্য চার মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে। এতে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় ঘটবে।’
ক্ষুব্ধ শিক্ষক-অভিভাবকরা
হঠাৎ মূল্যায়ন নির্দেশিকায় পরিবর্তন আনায় ক্ষুব্ধ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকরা। উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুমন শেখ জাগো নিউজকে বলেন, ‘২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সাল—এ তিন বছরে তিনবার মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন করা হয়েছে। এবার ২০২৬ সালে আবার আরেক পদ্ধতি আনা হচ্ছে। আমরা সরকারি চাকরি করি, নির্দেশনা মানি। কিন্তু অভিভাবকদের এ মূল্যায়ন পদ্ধতি বোঝানো মুশকিল হয়ে পড়ে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীরাও ক্লাসে নতুন নতুন পদ্ধতি বুঝে উঠতে পারে না। অনেকে খেই হারিয়ে ফেলে। দেখা যায়, আগের বছর একজন শিক্ষার্থী ভালো করেছে। কিন্তু পরের বছর সে পড়ালেখা ভালো করলেও মূল্যায়ন পদ্ধতি না বোঝায় খারাপ ফল করছে। এতে শিশুরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলে।’
রাজধানীর উলন রোডের সপ্তবর্ণ বিদ্যা নিকেতনের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তনিমা তন্বি। তার মা জাহানারা আক্তার বলেন, ‘বছর বছর এমন নিয়ম পরিবর্তনে ছোট শিশুদের ওপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে। আগের সরকার যে নতুন নিয়ম করছিল, তা দিয়ে বাচ্চাদের মাথা খেয়েছে। এ সরকার এসেও আবার মাথা খাওয়ার ব্যবস্থা করছে। ঠিকঠাক পড়ালেখাটা কিছুই হচ্ছে না।’
শিক্ষাবিদদের মতামত উপেক্ষা
মূল্যায়ন পদ্ধতি বা কারিকুলামে পরিবর্তন আনতে হলে অবশ্যই শিক্ষাবিদদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের আমলারা সুবিধামতো নিয়ম করেন। সেখানে তাদের ব্যক্তিস্বার্থ, নতুন প্রকল্প ও প্রশিক্ষণ বাবদ আয় করার সুযোগ থাকে বলেও অভিযোগ শিক্ষাবিদদের।
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গঠিত পরামর্শক কমিটির প্রধান ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে আমরা কয়েকশ পাতার প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। অসংখ্য সুপারিশ করেছি। কিন্তু প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় তা আমলে নেয়নি। বরং তারা তাদের সুবিধামতো পরিবর্তন করে। এতে কার, কী স্বার্থ থাকে তা খতিয়ে দেখা দরকার।’
প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘মূল্যায়ন পদ্ধতি সহজ করলে তো প্রশিক্ষণে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া যাবে না। এখানেই মূল রহস্য। দফায় দফায় এসব পদ্ধতি পরিবর্তনের নামে ফন্দি-ফিকির করে প্রকল্প হাতে নেওয়া; প্রশিক্ষণের নামে অর্থ লোপাট করতেই এসব করা হয়। এসব বাদ দিয়ে টেকসই ও যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন করে তা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে কাজ করাটাই বেশি কার্যকর হবে।’
এএএইচ/এএসএ/এমএফএ/জেআইএম